18 1

মণিপুরে কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে চলমান জাতিগত সংঘাত মোকাবিলায় দেশটির কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনীর (সিআরপিএফ) সদস্যদের মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মণিপুর থেকে আসাম রাইফেলসের দু’টি ব্যাটালিয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার কয়েকদিন পর দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার সহিংসতায় বিধ্বস্ত রাজ্যটিতে সিআরপিএফের ২ হাজার সদস্যের দু’টি ব্যাটালিয়ন মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বুধবার ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। দেশটির একজন সরকারি কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, বর্তমান সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তেলেঙ্গানার ওয়ারাঙ্গলে মোতায়েনরত সিআরপিএফের ৫৮ নম্বর ব্যাটালিয়নকে মণিপুরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের লাতেহার থেকে ১১২ নম্বর ব্যাটালিয়নকে সরিয়ে মণিপুরে পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের সদরদপ্তর হবে কাংভাই (চুরাচাঁদপুর)… আর দ্বিতীয় ইউনিটটি ইম্ফলের আশপাশে অবস্থান করবে।

কয়েকদিন আগে দেশটির জম্মু-কাশ্মির ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অন্যান্য এলাকায় অপারেশনার দায়িত্বে নিয়োজিত আসাম রাইফেলসের দু’টি ব্যাটালিয়নকে মণিপুর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিআরপিএফের নতুন এই দুটি ইউনিটের সব কোম্পানিকে মণিপুরের বিভিন্ন অংশে ঘাঁটি স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে। প্রত্যেক ইউনিটে পাঁচ থেকে ছয়টি কোম্পানি রয়েছে। দু’টি ব্যাটালিয়নে সিআরপিএফের প্রায় ২ হাজার জওয়ান ও কর্মকর্তা রয়েছেন।

এছাড়া গত বছরের সহিংসতার পর মণিপুর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় আগে থেকেই সিআরপিএফের ১৬টি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন রাখা হয়েছে। গত সপ্তাহে ইম্ফল পশ্চিম, ইম্ফল পূর্ব, চুরাচাঁদপুর, ননি, জিরিবাম, কাংপোকপি, বিষ্ণুপুরে এসব ব্যাটালিয়নের অপারেশনাল ঘাঁটি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি ওই কর্মকর্তা বলেছেন, মণিপুরে নতুন করে মোতায়েন করা সিআরপিএফের দুই ইউনিটে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া কর্মকর্তারাও রয়েছেন। সেখানে তাদের লজিস্টিক, সরঞ্জাম এবং অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তিরও প্রয়োজন হবে।

গত বছরের মে মাসে মণিপুরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতে সম্প্রদায় এবং কুকি-জো উপজাতিদের মধ্যে সহিংসতা শুরু হয়। ওই সহিংসতায় দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ও প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। এরপর রাজ্যজুড়ে থেমে থেমে সহিংসতা চললেও এই প্রথমবারের মতো চলমান জাতিগত সংঘাতে ড্রোন ও রকেট ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। এমনকি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা রাইফেল এবং গ্রেনেডেরও ব্যবহার করছে। গত কয়েক দিনের সহিংসতায় দেশটির এই রাজ্যে কমপক্ষে ১১ জন নিহত ও এক ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

হতাহতের এই ঘটনা মণিপুরের সহিংস পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। সংঘাত-সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে রাজধানী ইম্ফল ও তার আশপাশের এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্যে ইন্টারনেট বন্ধের ঘোষণাও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top