ak 1739965265

উত্তরায় হামলার শিকার সেই যুগল স্বামী-স্ত্রী নন, প্রকৃত স্ত্রী যা জানালেন

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় এক দম্পতি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে পরে জানা যায়, আহত মেহেবুল হাসান ও মোছা. নাসরিন আক্তার ইপ্তি আসলে স্বামী-স্ত্রী নন।

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এক নারী নিজেকে মেহেবুল হাসানের প্রকৃত স্ত্রী দাবি করে গণমাধ্যমে জানান, “উত্তরায় হামলার শিকার মেহেবুল আমার স্বামী, কিন্তু ইপ্তিকে আমি চিনি না। কিছুদিন ধরেই বুঝতে পারছিলাম, আমার স্বামী অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।”

তিনি আরও বলেন, “হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে আমি জানি না, কারণ ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। তবে আমার স্বামীর কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল কি না, তাও জানা নেই। তিনি আমার সঙ্গে এসব বিষয়ে কখনো কিছু শেয়ার করতেন না।”

নাসরিন আক্তার ইপ্তির সঙ্গে মেহেবুলের বিয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন ওই নারী। তিনি বলেন, “আমার স্বামী গোপনে ইপ্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। কিন্তু হামলার পর তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচিত করতে চাইছেন। আমি যখন এই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে দেখি, তখনই স্বামীকে কল দিই, কিন্তু তিনি রেসপন্স করেননি। পরে হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলি। তিনি আমাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করেন।”

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ওই নারী তার শাশুড়ির সঙ্গে লাউড স্পিকারে কথা বলেন এবং অভিযোগ করেন, “আমার শ্বশুর-স্বামী সবাই আমাকে ভয় দেখাচ্ছে। স্বামী বলছে, সুস্থ হলে আমাকে দেখে নেবে।”

হামলার ঘটনা: গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় গুরুতর আহত হন মেহেবুল হাসান (৩৬) ও মোছা. নাসরিন আক্তার ইপ্তি (৩০)। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মেহেবুলের আঘাত গুরুতর হলেও তিনি আশঙ্কামুক্ত।

হামলার কারণ: উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে এক কিশোর গ্যাং সদস্য একটি শিশুকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। পাশ দিয়ে আরেকটি মোটরসাইকেলে থাকা মেহেবুল ও ইপ্তি প্রতিবাদ করেন। এতে কিশোর গ্যাং ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর রামদা দিয়ে হামলা চালায়।

অভিযুক্তদের আটক: হামলার সময় ওই নারী চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। তারা কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্য মো. মোবারক হোসেন (২৫) ও রবি রায় (২২)-কে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

এই ঘটনায় তদন্ত চলছে, এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top