hasu apa

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: অপারেশন পেহচান এ হাসিনা গ্রেপ্তার

শনিবার রাতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করেছেন, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তিনি ভারতের এপিবি আনন্দের একটি সংবাদ শিরোনামের প্রতি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আশা করছি অচিরেই শেখ হাসিনা অপারেশন পেহচানের আওতায় গ্রেপ্তার হবেন এবং বাংলাদেশে পুশইন হবেন,” এরপর একটি হাসির ইমোজি যোগ করেন।

এই মন্তব্যটি ভারতের একটি প্রতিবেদনের প্রতি ছিল, যেখানে বলা হয়েছিল, “অপারেশন পেহচান: নয়ডা থেকে গ্রেপ্তার ১০ বাংলাদেশি!” এই অভিযানটি মূলত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে চালানো হচ্ছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান হাস্যরসাত্মকভাবে মন্তব্য করেন যে, শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

পোস্টটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড এবং গুমের ঘটনায় জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যার কারণে তার পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকার তাকে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

ভারত সরকারও এই বিষয়টি জানে এবং সম্প্রতি শেখ হাসিনার জন্য একটি ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু করেছে। বাংলাদেশ সরকারের উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানিয়েছিলেন যে, ভারত সরকার এই বিষয়ে অবগত এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রদান করেছে।

ভারতের “অপারেশন পেহচান” অভিযানটি মূলত অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি নয়ডা থেকে ১০ জন বাংলাদেশি গ্রেপ্তার হওয়া সংবাদে উঠে এসেছে।

শেখ হাসিনার পাসপোর্ট বাতিল হওয়া এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলি তাকে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেছে। মুস্তাফিজুর রহমানের পোস্টটি হাস্যরসাত্মক হলেও, এটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং শেখ হাসিনার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছু ইঙ্গিত প্রদান করে।

এই পোস্টটি বিভ্রান্তিকর ও প্রোপাগান্ডার অংশ হতে পারে, তবে এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি আলোচনার সূচনা করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের মন্তব্য ও ঘটনাবলী পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে, যার ফলে দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্ক আরও উত্তেজিত হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top