1740069140476

ভারত বিপক্ষে হার তবুও সেমিফাইনালের আশা বাচিঁয়ে রাখল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে উদ্বেগ চলছেই, আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও সেই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা যায়নি। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ৩৫ রানেই ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে তাওহিদ হৃদয়ের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে দল লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায়। কম রানের পুঁজি নিয়েও স্পিনাররা ভালোই চেষ্টা করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে ভারত। এই হারের ফলে সেমিফাইনালে উঠতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। পরবর্তী দুই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেলেই সেমিফাইনালের আশা জিইয়ে রাখতে পারবে টাইগাররা।

 

দুবাইয়ে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ৪৯.৪ ওভারে ২২৮ রানে অলআউট হয় তারা। হৃদয়ের দুর্দান্ত ১০০ রানের ইনিংস দলকে বিপর্যয় থেকে কিছুটা উদ্ধার করে, জাকের আলিও ৬৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। ভারতের হয়ে মোহাম্মদ শামি একাই ৫৩ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন।

 

জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ভারত। রোহিত শর্মা ও শুবমান গিলের ব্যাটে ৮ ওভারেই দলীয় ৫০ পেরিয়ে যায় তারা। তবে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে রোহিত (৩১) আউট হলে প্রথম সাফল্য পায় বাংলাদেশ। এরপর রিশাদ-মিরাজ কিছুটা চাপ সৃষ্টি করলেও ম্যাচ বের করে নেন গিল ও রাহুল। গিল ১২৯ বলে ১০১* রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, রাহুল অপরাজিত থাকেন ৪১ রানে।

 

প্রথম ওভারেই সৌম্য (০) ও দ্বিতীয় ওভারে শান্ত (০) আউট হলে শুরুতেই চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর মিরাজ (৫), তানজিদ (২৫) ও মুশফিক (০) দ্রুত বিদায় নিলে মাত্র ৩৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল দল।

তবে ছয় নম্বরে নেমে জাকেরের সঙ্গে ১৫৪ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেন হৃদয়। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এটি ষষ্ঠ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। জাকের ৬৮ রানে আউট হলেও হৃদয় একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান। যদিও ব্যাটিংয়ের সময় ক্র্যাম্পে ভুগছিলেন, তবুও ১১৮ বলে ১০০ রানের ইনিংস উপহার দেন তিনি।

 

ছোট লক্ষ্য হলেও স্পিনারদের বোলিংয়ে কিছুটা আশার আলো দেখেছিল বাংলাদেশ। রিশাদ ২ উইকেট ও তাসকিন-মুস্তাফিজ ১টি করে উইকেট নিলেও গিল-রাহুলের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জয়ের আশা টিকে থাকেনি। ৪৬.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ভারত জয় নিশ্চিত করে।

এই হারের ফলে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে যাওয়ার সমীকরণ কঠিন হয়ে গেল। বাকি দুই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই, নয়তো বিদায় নিতে হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে।

 

সোহাগ/

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top