ভাইরাল ছবির আসল গল্প: চলুন পরিষ্কার করি
বন্ধু, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিশ্চয়ই দেখেছ—একজন বৃদ্ধের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যাপশনে লেখা, তিনি নাকি ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে হামলার দায়ে গ্রেপ্তার। অনেকেই আবেগে শেয়ার করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সত্যি কি তাই?
সংক্ষেপে উত্তর: না। এই বৃদ্ধের নাম ইদ্রিস শেখ। তিনি ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় গ্রেপ্তার নন; বরং ২০০৩ সালের একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে আছেন। সেই মামলার রায় হয়েছে ২০১৫ সালে।
কুইক ফ্যাক্টস (Featured Snippet)
- ভাইরাল দাবির ভিত্তি: ২০২৪ ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার—ভুল।
- বাস্তবতা: ২০০৩ সালের একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে আটক।
- রায়: ২০১৫ সালে আদালত রায় দেন; ইদ্রিস শেখ পান ১০ বছরের কারাদণ্ড।
- ভাইরাল ছবি–ভিডিও: ২৯ জুলাই আদালত প্রাঙ্গণের দৃশ্য থেকে নেওয়া।
ভাইরাল দাবি কীভাবে ছড়াল
কয়েকটি পোস্টে বৃদ্ধের ছবি দিয়ে বলা হয়, ‘১২০ বছর বয়স! এমন মানুষ কি ছাত্রদের সাথে ঝামেলা করতে পারেন?’—এমন আবেগঘন কথায় অনেকেই বিশ্বাস করে ফেলেন। কিন্তু ভাইরাল হওয়া ছবির উৎস খুঁজলে দেখা যায়, এটি ছাত্র আন্দোলন–সম্পর্কিত কোনো গ্রেপ্তারের দৃশ্য নয়।
ভিডিও ও প্রতিবেদনে কী দেখা গেছে
একটি সংবাদমাধ্যমের ভিডিও রিপোর্টে দেখানো হয়েছে, আদালতে লাঠি হাতে হাজির হন শতবর্ষী ইদ্রিস শেখ। তাঁর ছেলের আবেগঘন মুহূর্তও সেখানে দেখা যায়। ফুটেজ ও ছবির মিল থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়—ভাইরাল ছবিগুলো ওই ভিডিও থেকেই নেওয়া।
ভিডিওতে বলা হয়, দৃশ্যটি ২৯ জুলাই–এর। সেখানে পরিবার–পরিজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইদ্রিস শেখের বয়স ১২০ বছর। তবে মনে রাখবেন, এ বয়স পরিবারের দাবি—সরকারি রেকর্ডে কত, তা আলাদা অনুসন্ধানের বিষয়।
মামলার পটভূমি: ২০০৩ সালের সংঘর্ষ
মাদারীপুরের রাজৈর থানার শেখেরটেক এলাকায় ২০০৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। গুলিবর্ষণে দুইজন নিহত হন এবং বহু মানুষ জখম হন। এই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তের পর একই বছরের আগস্টে ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০০৫ সালের ১০ নভেম্বর আদালত অভিযোগ গঠন করেন। ২০১০ সালে মামলাটি চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। দীর্ঘ সাক্ষ্য–শুনানির পর ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর আদালত রায় দেন—চারজনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন, এবং ইদ্রিস শেখসহ নয়জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড।
রায়ের দিনে ইদ্রিস শেখ আদালতে
রায়ের বিবরণে উল্লেখ ছিল, রায় ঘোষণার দিন ইদ্রিস শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল গুরুতর জখম করার। অর্থাৎ, তাঁর কারাবাসের আইনি প্রক্রিয়া ছাত্র আন্দোলনের বহু আগে থেকেই চলমান।
তাহলে এখন ছবি–ভিডিও কেন?
২৯ জুলাই আদালতে হাজিরার সময় মিডিয়ার ক্যামেরায় ধরা পড়েন ইদ্রিস শেখ। সেখান থেকেই ছবি–ভিডিও সামাজিক মাধ্যম জুড়ে ছড়ায়। কিছু পেজ বিভ্রান্তিকর ক্যাপশন দিয়ে পুরোনো মামলার সঙ্গে ২০২৪ ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ জুড়ে দেয়।
কেন এই বিভ্রান্তি ক্ষতিকর
১) জনগণ সত্য থেকে দূরে সরে যায়। ২) চলমান তদন্ত–বিচারে চাপ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ৩) ভুক্তভোগী পরিবার, অভিযুক্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া—সবকিছুর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
কীভাবে সত্য যাচাই করবেন (Fact-check Tips)
- রিভার্স ইমেজ সার্চ করুন: ছবি কোথা থেকে এসেছে দেখুন।
- তারিখ মিলিয়ে নিন: ক্যাপশন ও ঘটনার সময় কি এক?
- একাধিক বিশ্বাসযোগ্য সূত্র দেখুন: ভিডিও–রিপোর্ট–অফিসিয়াল ব্রিফিং।
- আবেগকে বিরতি দিন: শেয়ার করার আগে ভেবে নিন—যাচাই ছাড়া শেয়ার ক্ষতি করতে পারে।
আইনি প্রেক্ষাপট: মামলার অগ্রগতি
২০০৩ সালের ঘটনার বিচারপ্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগিয়েছে—তদন্ত, অভিযোগ গঠন, ট্রাইব্যুনালে বদলি, সাক্ষ্য–শুনানি এবং ২০১৫ সালে রায়। তাই ২০২৪ সালের ঘটনাকে সামনে এনে ‘এখন গ্রেপ্তার’ বলাটা আইনগত বাস্তবতার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
বয়স বিতর্ক: ১২০ না অন্য কিছু?
পরিবার বলছে, তাঁর বয়স ১২০ বছর। তবে এমন উচ্চ বয়স সাধারণত সরকারি নথি বা মেডিক্যাল যাচাই ছাড়া নিশ্চিত করা যায় না। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বয়স’কে আবেগের হাতিয়ার বানিয়ে ভুল বার্তা ছড়ানো থেকে বিরত থাকা জরুরি।
আমাদের মূল্যায়ন: দাবি—বিভ্রান্তিকর
সব তথ্য একসাথে বিচার করে দেখা যায়, ভাইরাল পোস্টগুলোর দাবি Misleading। ইদ্রিস শেখ ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় গ্রেপ্তার নন। তিনি ২০০৩ সালের হত্যা মামলার রায় সংশ্লিষ্ট বন্দি। ভাইরাল ছবি–ভিডিও আদালত প্রাঙ্গণের সাম্প্রতিক দৃশ্য হলেও মামলার প্রেক্ষাপট পুরোনো এবং রায় ২০১৫ সালে হয়েছে।
কেন এই রিপোর্ট আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ
- জনস্বার্থ: ভুল তথ্য বিশৃঙ্খলা বাড়ায়।
- বিচারপ্রক্রিয়া: আইনি বাস্তবতা জানলে মতামত হবে পরিপক্ব।
- ডিজিটাল লিটারেসি: ফ্যাক্ট-চেকিং শেখা আজ জরুরি স্কিল।
শেষ কথা
বন্ধু, সত্য যাচাই না করে কোনো পোস্ট শেয়ার করা থেকে বিরত থাকি। মানবিকতা যেমন দরকার, তেমনি দরকার তথ্যের সঠিকতা। যে কোনো ভাইরাল বিষয় দেখলে উৎস, তারিখ ও অফিসিয়াল তথ্য মিলিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
অনুপ্রেরণাদায়ী উপসংহার ও CTA: তোমার টাইমলাইনে যদি এমন বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেখো, এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করো এবং সবাইকে ফ্যাক্ট-চেক করতে উৎসাহ দাও। Responsible sharing saves trust.
বাংলাদেশ নিউজ২৪ এর মতামত: ভাইরাল তথ্য দেখলে তুমি প্রথমে কী যাচাই করো—ছবির উৎস, নাকি ঘটনাটির তারিখ? নিচে কমেন্ট করে জানাও, তোমার টিপসই অন্যদের সহায়তা করতে পারে।
Viral posts claim a 120-year-old man was arrested for the 2024 student unrest. Fact-check shows he is Idris Sheikh, jailed over a 2003 murder case with a 2015 verdict.


