Student Detention Over Bill Dispute

৩ কোটি টাকা তুলতে গিয়ে আটক: ঝালকাঠিতে ২ শিক্ষার্থীর মুচলেকায় ছাড়া পাওয়ার আসল ঘটনা কী?

ঝালকাঠিতে তুলকালাম! ৩ কোটি টাকার বিল নিয়ে আটক দুই শিক্ষার্থী?

আরে বন্ধু, শুনেছেন নাকি ঝালকাঠির লেটেস্ট খবর? একেবারে সিনেমার মতো ঘটনা! বিশাল অংকের, মানে ৩ কোটি টাকার একটা বিল তুলতে গিয়ে দুই শিক্ষার্থী জনতার হাতে আটক হয়েছেন। পরে অবশ্য পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায় এবং মুচলেকা দিয়ে ছেড়েও দেয়। কিন্তু ঘটনাটা কী এতই সহজ? চলুন, একটু বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিলুপ্ত কমিটির সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম এবং বরিশাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মেহেদীকে নিয়েই যত কাণ্ড। অভিযোগ উঠেছে, তারা ঝালকাঠি-২ আসনের সাবেক এমপি আমির হোসেন আমুর কম্পিউটার অপারেটরের হয়ে একটি ঠিকাদারি কাজের ৩ কোটি টাকার বিল পাস করানোর জন্য তদবির করতে গিয়েছিলেন। আর সেখানেই বাধে হট্টগোল। এই ঘটনার পর ৩ কোটি টাকা তুলতে গিয়ে আটক হওয়ার বিষয়টি টক অফ দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।

গণ্ডগোলের শুরুটা কীভাবে হলো?

জানা গেছে, ঝালকাঠি-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর কম্পিউটার অপারেটর শাওন খানের একটি ব্রিজ ও সড়কের কাজের প্রায় তিন কোটি টাকার বিল আটকে ছিল। সেই বিল পাস করানোর জন্য সিরাজুল ও মেহেদী গত দুই মাস ধরেই নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবীরকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছিলেন।

উপজেলা প্রকৌশলীর ভাষ্যমতে, কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় এবং বিলের প্রক্রিয়া সঠিক না থাকায় তিনি বিল ছাড়তে রাজি হননি। তিনি বারবার প্রকৃত ঠিকাদারকে নিয়ে আসতে বললেও ওই দুই শিক্ষার্থী নিজেরাই চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এমনকি তারা বিল ছাড়ানোর জন্য প্রকৌশলীকে ঘুষের প্রস্তাবও দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা সরাসরি ঝালকাঠি এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিসে গিয়ে বিল না দেওয়ার কারণ জানতে চান। এসময় সেখানে উপস্থিত বিএনপিপন্থী ঠিকাদারদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে অন্য ঠিকাদাররা তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সিরাজুল ও মেহেদীকে সদর থানায় নিয়ে যায়। এরপরই শুরু হয় রাজনৈতিক দৌড়ঝাঁপ। থানায় উপস্থিত হন জেলা বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা।

শেষ পর্যন্ত, এলজিইডি কর্তৃপক্ষের কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি আপস-মীমাংসা হয়। ওসি মনিরুজ্জামানের রুমে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে একটি সাদা কাগজে লেখা হয় যে, তাদের মধ্যে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হয়েছে। এরপর মুচলেকায় স্বাক্ষর করে দুই শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ সাধারণত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যেখানে স্বচ্ছতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

দুই পক্ষের বক্তব্য কী?

আটক শিক্ষার্থীরা: পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন তারা সাংবাদিকদের বলেন, নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবীরের ঘুষ ও দুর্নীতির বিষয়ে তারা নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু উপস্থিত ঠিকাদাররা ষড়যন্ত্র করে তাদের পুলিশে ধরিয়ে দেয়।

উপজেলা প্রকৌশলী: ইকবাল কবীর জানান, কাজ শেষ না করে বিল পাসের জন্য ওই দুই শিক্ষার্থী তাকে অনৈতিকভাবে চাপ দিচ্ছিল এবং ঘুষের প্রস্তাবও দিয়েছিল। তিনি রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করে হয়রানি করা হচ্ছিল।

এই ঘটনার পর দেশের উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এই বিষয়ে আরও জানতে পড়তে পারেন: উন্নয়ন ও রাজনীতি

বন্ধুরা, পুরো ঘটনাটা শুনে কী মনে হচ্ছে? এটা কি আসলেই একটি সাধারণ ‘ভুল বোঝাবুঝি’ নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে? তিন কোটি টাকার বিল, সাবেক এমপির স্টাফ, আর ছাত্র সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে मामलाটা কিন্তু বেশ জটিল।

বাংলাদেশ নিউজ২৪ এর মতামত: একটি সরকারি দপ্তরে এমন ঘটনা কি শুধুই ভুল বোঝাবুঝি, নাকি এর পেছনে ক্ষমতা ও দুর্নীতির কোনো অদৃশ্য খেলা চলছে? আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান।

ঝালকাঠিতে ৩ কোটি টাকা তুলতে গিয়ে আটক দুই শিক্ষার্থীকে মুচলেকায় ছাড়া দেওয়া হয়েছে। এলজিইডি অফিসে ঠিকাদারি বিল নিয়ে এই হট্টগোলের পেছনের আসল কারণ জানুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top