গুলশানে চাঁদাবাজি: সরাসরি অভিযুক্ত হলেও অস্বীকার জানালেন জানে আলম অপু
রাজধানীর গুলশানে চাঁদা আদায়ের সময় হাতেনাতে আটক হন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ও ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ’-এর একাধিক নেতা। এই ঘটনায় দুই ছাত্র সংগঠন থেকে ৫ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে আছেন গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম অপু এবং সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদ। তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং সরাসরি চাঁদাবাজির সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অপুর বক্তব্য: “আমি গ্রেপ্তার হইনি, আমি কোথাও চাঁদাবাজিও করি নাই”
ঘটনার পরপরই জানে আলম অপু তার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি লিখেছেন, “প্রথমত আমি গ্রেপ্তার হইনি, দ্বিতীয়ত আমি কোথাও চাঁদাবাজিও করি নাই। আজকের গুলশানের ঘটনায় আমি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনোভাবেই জড়িত ছিলাম না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “প্রচণ্ড মানসিক চাপে আছি… আমাকে একটু সময় দিন প্লিজ, আমি আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর দেব এবং যদি আমি কোনো অপরাধ করে থাকি, তাহলে শাস্তি মাথা পেতে নেব।”
দুই সংগঠনের কঠোর পদক্ষেপ
🔸 গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ধারা ৩.১ অনুযায়ী জানে আলম অপু ও রিয়াদকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব স্বাক্ষরিত এ সিদ্ধান্তে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
🔸 অপরদিকে, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ও তাদের তিন নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে। রাতেই এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক
এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। অনেকেই জানে আলম অপুর বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, আবার অনেকেই প্রমাণ সামনে আসা পর্যন্ত মন্তব্য করতে রাজি নন।
বাংলাদেশ নিউজ২৪-এর বিশ্লেষণ: এই চাঁদাবাজি বিতর্ক শুধু ছাত্র রাজনীতিতে নয়, বরং সার্বিক রাজনৈতিক পরিবেশেও প্রশ্ন তুলছে— ছাত্র সংগঠনগুলোর আদর্শ কি বিলুপ্তির পথে?
ঘটনার পরবর্তী আইনি ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ এখন সবার নজরে।
গুলশানে চাঁদাবাজির ঘটনায় গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের দুই নেতা বহিষ্কার, জানে আলম অপুর দাবি: ‘আমি গ্রেপ্তার হইনি, আমি চাঁদাবাজিও করিনি’।


