সংবিধান সংস্কারে নতুন ধারা: ঐক্যমতের পথে বাংলাদেশ
বাংলাদেশে চলমান রাষ্ট্র সংস্কার সংলাপের ধারাবাহিকতায় এবার আলোচনায় উঠে এসেছে সংবিধানের মূলনীতিতে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন এবং নারী প্রতিনিধিত্ব ও পুলিশ কমিশনের গঠন সংক্রান্ত বিষয়সমূহ।
সাম্প্রতিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাজনৈতিক দল সংবিধানের ৫ম সংশোধনী অনুযায়ী আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছে। যদিও কিছু দল বিরোধিতা করে, তবুও একটি broad consensus তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি কী হবে?
নতুন প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে সংবিধানে “সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, গণতন্ত্র, এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি”—এই নীতিগুলো স্পষ্টভাবে সংযোজিত হবে। এসব নীতির পাশাপাশি ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ একটি মূল আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পুলিশ কমিশনের গঠন ও ভূমিকা
সকল দলের মধ্যে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের বিষয়ে ঐক্যমত দেখা গেছে। এর উদ্দেশ্য হলো—আইনানুগ কার্যকর শৃঙ্খলা রক্ষা, পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
কমিশনের প্রস্তাবিত গঠনে থাকবে:
- ১ জন অবসরপ্রাপ্ত আপিল বিভাগের বিচারপতি (চেয়ারম্যান, বয়স ≤৭৫)
- ১ জন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (সদস্য সচিব, বয়স ≤৬২)
- সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের প্রতিনিধি
- ১ জন সচিব পদমর্যাদার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা
- ১ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক
- ১ জন মানবাধিকার কর্মী (কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা)
এইভাবে মোট ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিশনের খসড়া প্রস্তুত হয়েছে।
নারী কমিশন ও ১০০ আসনের প্রস্তাব
একটি বড় অগ্রগতি হলো—এক তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ১০০ নারী আসনের একটি structural proposal। জামায়াতসহ অনেক দল ৩০০ পুরুষ ও ১০০ নারী আসনের মোট ৪০০-আসনের পার্লামেন্ট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে নারী আসন কীভাবে নির্ধারিত হবে—সে বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই আসনগুলো নির্ধারিত হবে পিয়ার পদ্ধতির মাধ্যমে, অর্থাৎ ভোটের আনুপাতিক হারে।
সামগ্রিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ
এই আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব পার করেছে যেখানে সংবিধানের মূল চেতনা এবং রাজনৈতিক কাঠামোর অন্তর্গত বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
বাংলাদেশ নিউজ২৪ এর মতামত: রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে এমন সংস্কারমূলক আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কি মনে করেন নারী প্রতিনিধিত্ব ও ধর্মীয় মূল্যবোধ একইসাথে সংবিধানে ভারসাম্যপূর্ণভাবে স্থান পাবে? আপনার মতামত দিন নিচের কমেন্টে!
Most political parties agree on reinstating full faith in Allah in Bangladesh’s constitution and forming an inclusive police commission and women representation.


