ঐক্যমত কমিশন ও ভিন্নমতের রাজনীতি: বাংলাদেশের নতুন বাস্তবতা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে ঐক্যমত কমিশনের বৈঠক ও সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত। সম্প্রতি বিএনপি, সিপিবি ও গণফোরাম কমিশনের বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেছে। তাদের অভিযোগ, নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা সীমিত করার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে এবং কিছু দলকে বেশি সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
গণতন্ত্রের চর্চা ও ভিন্নমতের গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হচ্ছে ভিন্নমত। ব্রিটেনের Westminster System কিংবা আমেরিকার popular vote-এর উদাহরণ টেনে বলা হয়, গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আইন ও সংবিধান থাকলেও, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মান জরুরি।
একজন বিশ্লেষক বলেন, “সব ইস্যুতে একমত হওয়া গণতন্ত্র নয়। বরং ভিন্নমতের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র এগিয়ে যায়।”
সংবিধান, সংস্কার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান
বৈঠকে আলোচকরা বলেন, ২০টি মৌলিক সংস্কারের মধ্যে ১২টিতে ঐক্যমত হয়েছে, যা ইতিবাচক। তবে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ ও কার্যক্রমে দলীয়করণ, নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, মানবাধিকার কমিশন, দুদক, পিএসসি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
ন্যায়পাল (Ombudsman) প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়, যেখানে বলা হয়, “ন্যায়পাল হবে সর্বোচ্চ মর্যাদার পদ, তার সিদ্ধান্তে সকল পক্ষের আস্থা থাকতে হবে।”
ভয়ের সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সহনশীলতা
এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, ভিন্নমত প্রকাশ করলেই সন্ত্রাসী লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে, রাজপথে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে। চাঁদাবাজি, দমন-পীড়ন, এবং ছাত্র রাজনীতির অবক্ষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
একজন বক্তা বলেন, “চাঁদাবাজি, দুর্নীতি—এসবের বিরুদ্ধে কঠোর আইন দরকার। Healthy political competition ছাড়া গণতন্ত্র টিকবে না।”
তরুণদের রাজনীতি ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
অনুষ্ঠানে তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ, প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও পারস্পরিক সম্মান নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, “রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়ে মোকাবেলা করতে হবে, ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়।”
তরুণদের জন্য বার্তা ছিল—রাজনীতিতে সাহস, সততা ও উদারতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
উপসংহার: সম্মান, সহমর্মিতা ও গণতন্ত্রের পথে
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঐক্যমত ও ভিন্নমত—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দলগুলো যদি পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় রাখে, তাহলে দেশের জন্য একটি সুন্দর ও কার্যকর সরকারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
গণতন্ত্রের চর্চা, সংস্কার ও তরুণদের অংশগ্রহণ—এই তিনটি বিষয়ই আগামী দিনের বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা।
বাংলাদেশ নিউজ২৪ এর মতামত: আপনি কি মনে করেন, ভিন্নমত ও সম্মান বজায় রেখে রাজনীতি করা সম্ভব? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।
Bangladesh’s political landscape faces new debates as the Consensus Commission sees walkouts, power struggles, and calls for democratic reforms. Explore the latest analysis.


