‘তুমি কি আমি কি রাজাকার’: কোটা আন্দোলনের প্রতিবাদে ছাত্র রাজনীতির নতুন ভাষা
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে ‘তুমি কি আমি কি রাজাকার’ স্লোগানটি এক অনন্য প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ১৪ জুলাই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কটাক্ষের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে এই স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে সমদ্দিন হল থেকে শুরু হয়ে, রাজু ভাস্কর্য হয়ে, পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে এই প্রতিবাদের ঝড়।
স্লোগানের জন্ম ও ছড়িয়ে পড়া
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে প্রথম এই স্লোগানটি লেখা হয়—‘তুমি কি আমি কি রাজাকার রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে স্বৈরাচার স্বৈরাচার’। রেজভী আলমের হাত ধরে স্লোগানটি গ্রুপে আসে এবং পরে রাজু ভাস্কর্যে আন্দোলনকারীদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিবাদে এই স্লোগানকে রাজনৈতিক স্যাটায়ার হিসেবে ব্যবহার করে, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
একজন ছাত্রনেতা বলেন, “আমি স্লোগান ধরার পর দেখলাম সবাই আবেগপ্রবণ হয়ে স্লোগান দিচ্ছে। কেউ কেউ বাধা দিলেও, সাহস নিয়ে আমরা স্লোগান চালিয়ে যাই।”
প্রতিবাদের মূল্য ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি
এই স্লোগান ও আন্দোলনের কারণে অনেক ছাত্রনেতা ব্যক্তিগতভাবে হুমকি ও হামলার শিকার হন। কারও বাসায় হামলা, কারও পরিবারকে হুমকি—এসব ঘটনা আন্দোলনের বাস্তবতা তুলে ধরে। তবুও, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বলেন, “আমরা ভয় পাইনি, কারণ আমাদের লক্ষ্য ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।”
রাজনৈতিক স্যাটায়ার ও ছাত্র রাজনীতির শক্তি
‘তুমি কি আমি কি রাজাকার’ স্লোগানটি ছিল মূলত একটি রাজনৈতিক স্যাটায়ার, যা ক্ষমতাসীনদের বক্তব্যের পাল্টা জবাব। এই স্লোগান ছাত্র রাজনীতিতে নতুন সাহস ও ভাষা যোগ করেছে। আন্দোলনকারীরা বলেন, “যদি আমাদের রাজাকার বলা হয়, তাহলে যারা স্বৈরাচার, তাদেরও চিহ্নিত করা উচিত।”
আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ও ভবিষ্যৎ
২০২২ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া অনেক তরুণই এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন। ২০২৩ সালের যুগপৎ আন্দোলন, অবরোধ, একদফা দাবিতে তারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। ‘তুমি কি আমি কি রাজাকার’ স্লোগানটি শুধু কোটা আন্দোলন নয়, বরং ছাত্র রাজনীতির সাহস, প্রতিবাদ ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
উপসংহার: প্রতিবাদের ভাষা বদলে দেয় ইতিহাস
বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে ‘তুমি কি আমি কি রাজাকার’ স্লোগানটি নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদী চেতনা ও রাজনৈতিক স্যাটায়ারের শক্তি দেখিয়েছে। এই স্লোগান শুধু একটি মুহূর্তের নয়, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতার অংশ।
বাংলাদেশ নিউজ২৪ এর মতামত: আপনি কি মনে করেন, ছাত্র রাজনীতির এই নতুন ভাষা ও সাহস বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে পারে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।
The slogan ‘Tumi Ki Ami Ki Rajakar’ became a symbol of student protest in Bangladesh’s quota movement, reflecting youth resistance and political satire against authority.


