Assam Muslim Eviction Crisis

ভারতে মুসলিমদের উচ্ছেদ ও বহিষ্কার: আসামে নির্বাচনের আগে ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু

ভারতে মুসলিমদের উচ্ছেদ ও বহিষ্কার: আসামে নির্বাচনের আগে ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে রাজ্য নির্বাচনের আগে মুসলিমদের ওপর দমনপীড়ন ও উচ্ছেদ অভিযান নতুন মাত্রা পেয়েছে। রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আসামের বিভিন্ন জেলায় শত শত মুসলিম পরিবারকে বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে অস্থায়ী ক্যাম্পে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, তারা “অবৈধ অনুপ্রবেশকারী” এবং সরকারি জমিতে অবৈধভাবে বসবাস করছে—এমন অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিজেপি সরকারের নীতিমালা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতের ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে, নির্বাচনের আগে বাংলাভাষী মুসলিমদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান জোরদার হয়েছে। শর্মা প্রকাশ্যে বলেছেন, “বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীরা ভারতের পরিচয়ের জন্য হুমকি।”

২০১৯ সালে নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের মাধ্যমে অমুসলিম অভিবাসীদের নাগরিকত্বের সুযোগ দেওয়া হলেও, মুসলিমদের জন্য সেই সুযোগ নেই। ২০২১ সালের পর থেকে আসামে ৫০,০০০-এর বেশি মানুষ—যাদের বেশিরভাগই বাঙালি মুসলিম—উচ্ছেদের শিকার হয়েছে।

মানবিক সংকট ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

উচ্ছেদ অভিযানে হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অনেকের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই পদক্ষেপগুলো মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক নীতির প্রতিফলন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক এলেন পিয়ারসন বলেন, “ভারত সরকার অবৈধ অভিবাসীদের অনুসরণ করে হাজার হাজার দুর্বল মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।”

আসামের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজ্যের ট্রাইব্যুনাল প্রায় ৩০,০০০ মানুষকে বিদেশি ঘোষণা করেছে। এদের অনেকেই দীর্ঘদিনের বাসিন্দা, কিন্তু দরিদ্রতার কারণে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারছেন না।

বাংলাদেশে ‘পিছু হটা’ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন

আসামসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে শত শত বাঙালি মুসলিমকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে, যাকে ‘পিছু হটা’ কর্মসূচি বলা হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২,৩৬৯ জনের একটি তালিকা বাংলাদেশে নির্বাসনের জন্য প্রস্তুত। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের অবনতি এই সংকটকে আরও জটিল করেছে।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও ভোটের রাজনীতি

বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে, বিজেপি সরকার নির্বাচনের আগে ভোটারদের মেরুকরণের জন্য এই উচ্ছেদ ও বহিষ্কারের কৌশল ব্যবহার করছে। কংগ্রেস বলেছে, তারা ক্ষমতায় এলে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর বাড়ি পুনর্নির্মাণ করবে এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনবে।

উপসংহার: মানবাধিকার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার চ্যালেঞ্জ

আসামে মুসলিমদের উচ্ছেদ ও বহিষ্কারের ঘটনা শুধু মানবিক সংকট নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। ধর্মীয় ও জাতিগত বৈষম্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে এই সংকটের সমাধান জরুরি।

বাংলাদেশ নিউজ২৪ এর মতামত: আপনি কি মনে করেন, আসামের এই উচ্ছেদ ও বহিষ্কার মানবাধিকার লঙ্ঘন? আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিকতার জন্য কী করা উচিত? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

Ahead of state elections, India’s BJP government intensifies evictions and deportations of Bengali-speaking Muslims in Assam, raising human rights concerns and regional tensions.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top