আমাদের অর্থনীতির গল্প: গুটিকয় লোকের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মুক্তির পথে!
বন্ধুরা, কেমন আছো সবাই? আজ আমরা দেশের অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলব, যা আমাদের সবার জীবনকে প্রভাবিত করে। সম্প্রতি বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ দেশের আর্থিক খাত নিয়ে কিছু দারুণ আশার কথা বলেছেন, কিন্তু সাথে ছিল কিছু কড়া সত্যও। তাঁর কথা শুনে মনে হলো যেন আমাদের অর্থনীতির গল্পটা নতুন করে লেখা হচ্ছে, যেখানে রয়েছে অতীতের ভুল থেকে শেখার এবং ভবিষ্যতের জন্য সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার।
আর্থিক খাতের দুর্দশা: কেন এমনটা হয়েছিল?
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে সবার জন্য সমান সুযোগ ছিল না। দুর্নীতি ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ে। গুটিকয় লোক দেশের আর্থিক খাত ধ্বংস করে দিয়েছে।’ ভাবুন তো, যে ব্যাংকের মালিক, সেই আবার সংসদ সদস্য, আবার তার হোটেল আর টেলিভিশন চ্যানেলও আছে! সব খাতেই তাদের একচ্ছত্র প্রভাব ছিল, যেখানে সাধারণ মানুষের কোনো সুযোগ ছিল না। এটা ছিল আমাদের অর্থনীতির জন্য একটা বড় ধাক্কা।
তবে আশার কথা হলো, তিনি বলছেন, ‘এটা থেকে এখন আমরা মুক্ত। আসল মুক্ত হব, যখন এটা পুনরায় না হবে।’ তার মানে, আমরা এখন একটা পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হবে, দুর্নীতি কমবে, আর আমাদের আর্থিক ব্যবস্থা আবার সুস্থ হয়ে উঠবে।
গণ-অভ্যুত্থান এবং পরিবর্তনের অঙ্গীকার
এই কথাগুলো সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায়। এই সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারকও উপস্থিত ছিলেন। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ছিল এমন এক জাগরণ, যা মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলেছিল। তাই তো নাজমা মোবারক এই গণ-অভ্যুত্থানকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বলেও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের মানুষ অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, তার জন্য গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়েছে। শহীদ ও আহতদের ঋণ শোধ করা সম্ভব না। তবুও তাদের পরিবারদের সম্মান দেওয়া। আমরা যদি আর্থিক খাতে কাজ করি, এর যদি সংস্কার করতে পারি, তাহলে মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারব।’
তাঁর এই কথাগুলো দারুণ অনুপ্রেরণা জোগায়, তাই না? এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, এই পরিবর্তন শুধু অর্থনীতির জন্য নয়, এটা মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্যও জরুরি।
অর্থনীতির নতুন পথে যাত্রা: আইসিইউ থেকে বাড়ি ফেরা!
সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেছেন, ‘আমরা অল্প সময়ের জন্য এসেছি। সংস্কার করার জন্য কিছুটা চেষ্টা করেছি। ১৫ বছরে প্রতিষ্ঠান, প্রক্রিয়া ও মানুষ সব নষ্ট হয়ে গেছে। এত বছরের পাথর সরাতে সময় লাগবে।’ তিনি এমন ‘সোনার মানুষ’ খুঁজছেন, যারা এই সংস্কারের কাজটা সঠিকভাবে করতে পারবে।
তবে, আনন্দের খবর হলো, তাঁর মতে ‘আর্থিক খাত মোটামুটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ খাত আইসিইউতে ছিল, সেখান থেকে আরও আগে আমরা বেরিয়ে এসেছি। এখন দেশের অর্থনীতি কেবিন থেকে বাড়ি ফিরে আসছে। এবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।’ এটা সত্যিই দারুণ খবর! অর্থনৈতিক খাত যদি শক্তিশালী হয়, তবে তার সুফল পাবে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষও। তিনি জোর দিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি ব্যাংক খাতে ঠিকভাবে তদারকি করতে পারে, তাহলে আর কোনো অনিয়ম হবে না।
গভর্নরের দৃঢ় অঙ্গীকার: আমানতকারীদের স্বার্থ সবার আগে!
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরও তাঁর বক্তব্যে দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আর্থিক খাতকে আগের অবস্থায় পুনরাবৃত্তি হতে দেব না। আমরা চেষ্টা করব ভালো একটা অবস্থানে নিয়ে যেতে। আমরা অনেক সংস্কারমূলক কাজ হাতে নিয়েছি, যা আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যপদ্ধতি পরিবর্তন হবে। সেখানে স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে শক্তিশালী করতে হবে। এই কাজ সঠিকভাবে করতে পারলে সফল হব।’
গভর্নর বিশেষভাবে বলেছেন, ‘আমানতকারীদের স্বার্থ দেখতে হবে। তাদের স্বার্থই দেশের স্বার্থ। তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারলেই দেশের স্বার্থ রক্ষা করা যাবে।’ এই কথাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখার জন্য মানুষের আস্থা অপরিহার্য। মানুষ যদি তাদের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকে, তবেই আর্থিক খাত আরও মজবুত হবে। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুরুত্ব সম্পর্কে আরও জানতে বাংলাদেশ ব্যাংক এর ওয়েবসাইটে ঘুরে আসতে পারো।
এই পরিবর্তনের অঙ্গীকারগুলো আমাদের জন্য নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত, সুশাসিত একটি আর্থিক খাত আমাদের সকলের জন্য অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে। এই সংস্কারগুলো যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে শুধু আমাদের অর্থনীতিই নয়, পুরো দেশই নতুন গতি পাবে।
বাংলাদেশ নিউজ২৪ এর মতামত: দেশের আর্থিক খাতের এই ইতিবাচক পরিবর্তন এবং সংস্কারের অঙ্গীকার খুবই আশাব্যঞ্জক। তবে, এই কথাগুলো কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে রূপ নিতে হবে। সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আপনার কী মনে হয়, এই সংস্কারগুলো কতটা সফল হবে? আপনার মূল্যবান মতামত নিচে কমেন্ট করে জানান। দেশের আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: bdnews24us.com
বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে কথা বললেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। কীভাবে গুটিকয় লোকের ধ্বংসাত্মক প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, জেনে নিন।


