বন্ধুরা, বিশ্ব রাজনীতিতে আবার নতুন মোড়!
কেমন আছেন সবাই? আজকে একটা দারুণ খবর নিয়ে এলাম, যা শুনে বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। ফ্রান্স আর যুক্তরাজ্যের পর এবার প্রভাবশালী G7 দেশ কানাডাও ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির এই ঘোষণায় আন্তর্জাতিক মহলে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। চলুন, সহজ ভাষায় পুরো ব্যাপারটা জেনে নিই।
কানাডার এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের কারণ কী?
অনেক দিন ধরেই কানাডা “দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান” বা ‘two-state solution’ নীতির পক্ষে ছিল, যার মানে হলো ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পাশাপাশি অবস্থান করবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কার্নি সম্প্রতি বলেছেন, সেই পুরনো পথে আর কাজ হচ্ছে না। তাঁর মতে, বেশ কিছু কারণে কানাডাকে এই নতুন ও সাহসী পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে:
- ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ: গাজায় মানবিক পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে। কার্নি বলেন, “গাজায় মানুষের দুর্ভোগের মাত্রা অসহনীয় এবং এটি দ্রুত অবনতি হচ্ছে।” হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ৬০,০০০ এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং অপুষ্টিতে মারা গেছে বহু শিশু।
- ইসরায়েলি বসতি স্থাপন: পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন ক্রমাগত বেড়ে চলায় দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা দিন দিন কমে আসছে।
- অক্টোবর ৭-এর হামলা: ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের উপর হামাসের চালানো হামলা বিশ্বজুড়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা কানাডার বৈদেশিক নীতি বা ‘foreign policy’-তে বড় ধরনের পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
কার্নি স্পষ্টভাবে বলেছেন, “আমাদের চোখের সামনে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” এই পরিস্থিতি বদলাতেই কানাডা এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে।
শর্ত কিন্তু আছে! স্বীকৃতি কি безоговоροчно?
তবে এই স্বীকৃতি কিন্তু এমনি এমনি আসছে না। কানাডা কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এই পদক্ষেপ নির্ভর করছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের গণতান্ত্রিক সংস্কারের ওপর। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় শর্ত হলো, হামাসকে বাদ দিয়ে আগামী বছরের মধ্যে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এছাড়া, ভূখণ্ডটিকে সামরিকীকরণের বাইরে রাখার প্রতিশ্রুতিও দিতে হবে। অর্থাৎ, কানাডা একটি和平কামী ও গণতান্ত্রিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্র দেখতে চায়।
ইসরায়েল ও অন্যদের প্রতিক্রিয়া কেমন?
যেমনটা ধারণা করা হয়েছিল, কানাডার এই ঘোষণায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে।
- ইসরায়েলের ক্ষোভ: ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিকল্পনাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা এটিকে “হামাসের জন্য পুরস্কার” বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে যে এই পদক্ষেপটি যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের মুক্তির আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
- কানাডার অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা: কানাডার বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টিও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, “৭ অক্টোবরের সন্ত্রাসী নৃশংসতার পর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্ববাসীর কাছে ভুল বার্তা পাঠাচ্ছে।”
আন্তর্জাতিক চাপ এবং কানাডার অবস্থান
সম্প্রতি কানাডার ২০০ জনেরও বেশি সাবেক কূটনীতিক প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান। অনেকেই মনে করছেন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ঘোষণার পরই কানাডা এই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী কার্নি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, “কানাডা তার নিজস্ব পররাষ্ট্র নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।” তিনি জানিয়েছেন যে, এই বিষয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে কোনো আলোচনা করেননি। যদি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও কানাডা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়, তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই এই স্বীকৃতির বাইরে থাকবে, যা নিঃসন্দেহে একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন।
উপসংহার: শান্তির পথে নতুন আশা?
এই মুহূর্তে পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে কানাডার দিকে। তাদের এই একটি সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে যেমন এটি কয়েক দশক ধরে নিজেদের রাষ্ট্রের জন্য সংগ্রাম করা ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন আশার আলো, অন্যদিকে ইসরায়েলের সাথে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্কে এটি একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, বিশ্ব আর পুরনো ‘status quo’ মেনে নিতে রাজি নয়। নতুন দিনের নতুন সমাধান প্রয়োজন।
বাংলাদেশ নিউজ২৪ এর মতামত: কানাডার এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে আপনি কীভাবে দেখছেন? এটি কি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে সাহায্য করবে, নাকি সংঘাত আরও বাড়াবে? আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানান।
Canada plans to recognize Palestine as a state, a major foreign policy shift. This move is conditional on democratic reforms within the Palestinian Authority.


