Gaza Humanitarian Crisis Illustration

গাজায় দুর্ভিক্ষ ও মানবিক সংকট: ৬০ হাজারের বেশি প্রাণহানি, শিশুদের ভয়াবহ অবস্থা

সবাইকে স্বাগতম বাংলাদেশ নিউজ২৪ এ

আজকের পর্বে আমরা আলোচনা করব গাজা উপত্যকার চলমান মানবিক সংকট নিয়ে। ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে গাজায় এখন দুর্ভিক্ষের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রাণহানি ৬০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। চলুন, এই সংকটের গভীরে গিয়ে জানি কী ঘটছে সেখানে, এবং কীভাবে এই পরিস্থিতি গোটা বিশ্বকে নাড়া দিচ্ছে।

গাজায় মৃত্যুর মিছিল ও দুর্ভিক্ষের করুণ চিত্র

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬০,০৩৪ জনে পৌঁছেছে। শুধু মঙ্গলবারই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬২ জন, যাদের মধ্যে ১৯ জন ত্রাণ নিতে গিয়ে মারা গেছেন। যুদ্ধের মাঝে অস্থায়ী বিরতি দিয়েও মানবিক সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না, বরং প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা।

গাজার মধ্যাঞ্চলীয় দেইর এল-বালাহ থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক জানিয়েছেন, সোমবার রাতে ইসরায়েলি বাহিনী ড্রোন, ট্যাংক, বোমা ও রোবট ব্যবহার করেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম রক্তাক্ত রাত। এই হামলা ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও ইসরায়েল এখনো তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেনি।

দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা ও শিশুদের করুণ অবস্থা

বিশ্বের ক্ষুধা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইপিসি (Integrated Food Security Phase Classification) জানিয়েছে, গাজার বেশিরভাগ এলাকায় খাদ্য সংকট দুর্ভিক্ষের সীমা অতিক্রম করেছে। গাজা শহরে অপুষ্টির হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অবিরাম সংঘাত, ব্যাপক স্থানচ্যুতি, মানবিক সহায়তায় সীমাবদ্ধতা এবং স্বাস্থ্যসেবার ধস—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে।

আইপিসি-র তথ্য অনুযায়ী, প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন ফিলিস্তিনি দিনের পর দিন না খেয়ে থাকছেন। এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ২০ হাজারের বেশি শিশু তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে তিন হাজারের বেশি শিশু মারাত্মকভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে।

নারী ও শিশুদের ওপর ভয়াবহ প্রভাব

জাতিসংঘ নারী সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহুস জানিয়েছেন, গাজার ১০ লাখ নারী ও মেয়ে ‘অভাব অথবা জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলার’ মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এই বিভীষিকা বন্ধ হওয়া উচিত বলে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।

গাজার নাসের হাসপাতালের শিশু ও মাতৃকালীন বিভাগের প্রধান ডা. আহমেদ আল-ফাররা বলেন, এখন এমন শিশু দেখা যাচ্ছে, যাদের শরীরে মাংসপেশি বা চর্বি নেই—শুধু হাড়ের ওপর চামড়া। জীবনের প্রথম তিন বছরে অপুষ্টি শিশুদের স্নায়ুতন্ত্রের গঠনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে, যার ফলে ভবিষ্যতে মানসিক বিকাশে পিছিয়ে পড়া, পড়াশোনায় অসুবিধা, বিষণ্নতা ও উদ্বেগ দেখা দিতে পারে।

ডাক্তার উইদআউট বর্ডারসের চিকিৎসক টানিয়া হাজ হাসান বলেন, খাবার আসার পরও ঝুঁকি থেকে যায়। অপুষ্টি শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রভাব ফেলে, অন্ত্রে কোষ মারা যায়, হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়, সংক্রমণ ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দেয়। এমনকি পুনরায় খাবার দেওয়া হলেও শিশুরা হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে মারা যেতে পারে।

মানবিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক আহ্বান

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা গাজায় নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা প্রবেশ, জিম্মিদের মুক্তি এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু অবরোধ ও সংঘাত চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপসংহার: মানবতার জয় হোক

গাজা উপত্যকার এই সংকট আমাদের সবাইকে নাড়া দেয়। শিশু, নারী, বৃদ্ধ—কেউই নিরাপদ নয়। এই দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয় বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ নিউজ২৪ এর মতামত: গাজার এই মানবিক সংকট নিয়ে আপনার কী মতামত? আপনি কি মনে করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আরও বেশি কিছু করতে পারত? আপনার মন্তব্য আমাদের জানাতে ভুলবেন না।

Gaza faces its worst famine and humanitarian crisis as death toll surpasses 60,000. Severe malnutrition and food shortages threaten millions, especially children.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top