উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে তিন দিন পরও বিভ্রান্তি কাটেনি। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও হাসপাতাল থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য আসায় নিহত ও আহতদের চূড়ান্ত তালিকা এখনো প্রকাশ হয়নি, যা স্বজনদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এই বিভ্রান্তি কেন গুরুত্বপূর্ণ? কারণ, দুর্ঘটনার পরপরই স্বজনরা প্রিয়জনের খোঁজে হাসপাতাল ও স্কুলে ছুটে গেছেন। অথচ, আইএসপিআর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিমান বাহিনী—তিনটি সংস্থার দেওয়া নিহতের সংখ্যা ২৯ থেকে ৩১-এর মধ্যে ওঠানামা করছে। আহতের সংখ্যাও কোথাও ৬৯, কোথাও ১৬৫। স্কুল কর্তৃপক্ষও এখনো কোনো চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি, বরং তালিকা তৈরির জন্য কমিটি গঠন করেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আইএসপিআর সর্বশেষ ৩১ জন নিহত ও ১৬৫ জন আহতের কথা বলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিমান বাহিনী নিহত দেখিয়েছে ২৯ জন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ও ২৯ জন নিহতের কথা জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সেনা সদস্য, পুলিশ, ফায়ার ফাইটারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ৪৫ জন, সিএমএইচে ৯ জন, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ১ জন, শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে ১ জন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ১ জন চিকিৎসাধীন আছেন।
আইএসপিআরের পরিচালক লে. কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেছেন, “বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় কোনো তথ্য গোপন করার ইচ্ছা বা প্রয়াস সেনাবাহিনীর নেই। গণমাধ্যম চাইলে তদন্ত করতে পারে, আমরা সর্বোচ্চ সহায়তা দেব।” প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবও জানিয়েছেন, “বাংলাদেশে হতাহতের সংখ্যা গোপন করা কার্যত অসম্ভব।”
তালিকা তৈরিতে দেরি ও তথ্যের অমিল নিয়ে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিন কার্যদিবসের মধ্যে হতাহতের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
বাংলাদেশ নিউজ24 ইনসাইট: মাইলস্টোন স্কুলের এই দুর্ঘটনা শুধু একটি ট্র্যাজেডি নয়, বরং তথ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতার গুরুত্বও সামনে এনেছে। হতাহতের সঠিক সংখ্যা দ্রুত প্রকাশ না হলে গুজব ও বিভ্রান্তি আরও বাড়তে পারে—এটি ভবিষ্যতের জন্য বড় শিক্ষা।


