Factories for Money Laundering

অর্থ পাচার: কারখানা তৈরির আড়ালে ভয়ংকর ফাঁদ! উপদেষ্টার মন্তব্যে তোলপাড়

বন্ধুরা, কখনো ভেবে দেখেছেন বড় বড় কিছু কারখানা কেন হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়?

আমরা প্রায়ই শুনি, অমুক গার্মেন্টস বা তমুক ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে, শ্রমিকরা রাস্তায় নেমেছে। এর পেছনের কারণটা কী? নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি এক ভয়ংকর তথ্য সামনে এনেছেন, যা শুনলে আপনিও চমকে উঠবেন। তিনি বলেছেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি শুধু বিদেশে অর্থ পাচার করার জন্যই কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন! ভাবা যায়?

শনিবার রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তার মতে, এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য ব্যবসা করা নয়, বরং দেশের টাকা বিদেশে পাচার করা। এটি আমাদের অর্থনীতির জন্য এক বিরাট অশনি সংকেত। চলুন, পুরো বিষয়টি সহজভাবে জেনে নেওয়া যাক।

কারখানার আড়ালে যেভাবে চলে অর্থ পাচারের খেলা

বিষয়টা অনেকটা সিনেমার গল্পের মতো, কিন্তু এটাই কঠিন বাস্তবতা। উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেনের কথা অনুযায়ী, কিছু মালিক বিশাল পরিকল্পনা করে মাঠে নামেন। তারা প্রথমে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর সেই কারখানার নামে ব্যাংক থেকে মোটা অংকের ঋণ নেন।

কিন্তু সেই টাকা কারখানার উন্নয়নে বা শ্রমিকদের পেছনে খরচ না করে, তারা বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে বিদেশে পাচার করে দেন। যখন ব্যাংক ঋণের টাকা ফেরত দেওয়ার সময় আসে, তখন তারা কারখানা বন্ধ করে দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। ফলে একদিকে যেমন দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়, তেমনই বেকার হয়ে পড়েন হাজারো শ্রমিক। এই পরিকল্পিত অর্থ পাচার দেশের ব্যাংকিং খাতকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।

তিনি পরিষ্কার বলেন, “কারখানা বন্ধের জন্য আমি দায়ী নই। কিছু মালিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন, সেই টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। এখন টাকা ফেরত দিতে পারছেন না, দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।”

তবে ভালো মালিকরাও আছেন, যাদের জন্য দেশ এগোচ্ছে

অবশ্যই, সবাই এক নন। উপদেষ্টা এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, দেশে অনেক সৎ এবং ভালো শিল্পপতিও আছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই আমাদের রপ্তানি আয় বাড়ছে। তিনি বলেন, “দেশে তো অনেক কারখানা এখনও চলছে। না চললে ৭-৮ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হতো কীভাবে? ভালো মালিক আছেন, যারা কখনও ডিফল্ট করেননি। শ্রমিকদের দেখভাল করছেন, নিয়মিত বেতন দিচ্ছেন।”

এই ভালো উদ্যোক্তারাই আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের কারণেই ‘Made in Bangladesh’ ট্যাগ আজ বিশ্বজুড়ে একটি ব্র্যান্ড। তাই মুষ্টিমেয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর জন্য পুরো শিল্পখাতকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না।

শ্রমিকদের অধিকার ও ট্রেড ইউনিয়নের গণতন্ত্র

শ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উপদেষ্টা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন, “শ্রমিকরা চাইলে আন্দোলন করতেই পারেন। যে কেউ তার ন্যায্য দাবির পক্ষে রাস্তায় নামতে পারেন। এটি গণতান্ত্রিক অধিকার।”

তবে তিনি ট্রেড ইউনিয়নগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। অনেক ইউনিয়নে года ধরে নির্বাচন হয় না। দেখা যায়, একজন নেতা বছরের পর বছর ধরে পদ দখল করে আছেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “নৌ মন্ত্রণালয়ে এমন একজন আছেন, যিনি ২৭ বছর ধরে একই পদে আছেন। তিনি তো প্রায় স্থায়ী হয়ে গেছেন! কিন্তু গণতন্ত্রের কথা বললে, তা প্রতিটি স্তরেই থাকতে হবে।” নির্বাচনের মাধ্যমেই যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসে এবং শ্রমিকদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়। এ বিষয়ে আরও জানতে আপনি অর্থ পাচার সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে পড়তে পারেন।

চা বাগানের নারী শ্রমিকদের কান্না কেউ শোনে না!

আলোচনার এক পর্যায়ে উপদেষ্টা চা বাগানের নারী শ্রমিকদের অমানবিক জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “চা বাগানে শৌচাগার না থাকা খুবই অমানবিক। এর ফলে নারী শ্রমিকদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এমনকি সেখানে বিশুদ্ধ পানিও পাওয়া যায় না। এই অবস্থা চলতে পারে না।” এই কথাগুলো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, উন্নয়নের আলোর নিচে কতটা অন্ধকার লুকিয়ে আছে।

বন্ধুরা, একদিকে যখন দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন অন্যদিকে অর্থ পাচার এবং শ্রমিকদের অধিকার হরণের মতো ঘটনাগুলো আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। সৎ উদ্যোক্তাদের प्रोत्साहन দেওয়া এবং অসাধু চক্রকে আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করতে এই সমস্যাগুলো সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি।

দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আরও জানতে পড়ুন: বাংলাদেশ নিউজ২৪ইউএস

বাংলাদেশ নিউজ২৪ এর মতামত: এই ধরনের অর্থ পাচার রোধে সরকারের কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন? আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান।

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী শুধুমাত্র বিদেশে অর্থ পাচার করার উদ্দেশ্যে কারখানা প্রতিষ্ঠা করছেন। উপদেষ্টার মতে, এই চক্র ব্যাংক ঋণ নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যায়। বিস্তারিত জানুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top