Myanmar Political Transition Facade

মিয়ানমারে ক্ষমতার পালাবদল: নতুন সরকারের আড়ালে কি সেই পুরনো জান্তাই?

বন্ধুরা, মিয়ানমার থেকে একটা বড় খবর এসেছে, কিন্তু ব্যাপারটা যতটা সহজ মনে হচ্ছে, ততটা সহজ নয়। চলুন, একটু ভেতরের খবরটা জেনে আসা যাক!

সম্প্রতি মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা একটি অন্তর্বর্তী সরকারের (interim government) কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে। सुनने में तो बड़ा अच्छा लग रहा है, তাই না? মনে হচ্ছে, যাক, অবশেষে দেশে গণতন্ত্র ফেরার একটা পথ তৈরি হলো। কিন্তু আসল ঘটনাটা কি তাই? আসুন, একটু সহজ করে পুরো ব্যাপারটা বুঝি।

ক্ষমতার চাবিকাঠি আসলে কার হাতে?

কাগজে-কলমে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হলেও, দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী কিন্তু সেই আগের মানুষটিই আছেন—জেনারেল মিন অং হ্লাইং। তিনি একাধারে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান এবং দেশের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট। অর্থাৎ, পোশাক বদলালেও মানুষ কিন্তু একই রয়ে গেছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের (military coup) মাধ্যমে যিনি অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন, তিনিই এখন নতুন চেহারায় দেশের প্রধান।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে আর জরুরি অবস্থা থাকছে না। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি লোক-দেখানো পদক্ষেপ। কারণ, আসল ক্ষমতা militares-এর হাতেই থাকছে।

ডিসেম্বরের নির্বাচন: একটি সাজানো নাটক?

এই পুরো আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো আগামী ডিসেম্বরে একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। জান্তা সরকার বলছে, এই অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ছয় মাস ধরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহল এই নির্বাচনকে একটি প্রহসন বা সাজানো নাটক হিসেবেই দেখছে।

তাদের মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জেনারেলরা তাদের ক্ষমতাকে আরও পাকাপোক্ত করতে চাইছেন। এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যেখানে বিরোধী দলগুলো হয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না, অথবা তাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে, সামরিক বাহিনীর সমর্থিত প্রার্থীরাই যে জিতবে, তা প্রায় নিশ্চিত।

গণতন্ত্রের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও মানবিক বিপর্যয়

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের (civil war) মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

এই পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়ন চরমে পৌঁছেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী:

  • সেনাবাহিনী ৬,০০০ এরও বেশি সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে।
  • ২০,০০০ এর বেশি মানুষকে বিনা বিচারে আটক করে রেখেছে।
  • বিচারিক মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
  • সেনাবাহিনীর অভিযানের কারণে প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষ নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

তবে, সামরিক জান্তা বরাবরই এই অভিযোগগুলোকে ‘পশ্চিমা দুনিয়ার ভুয়া তথ্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহল কী বলছে?

মিয়ানমার পরিস্থিতি বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথিসনের মতো বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্ষমতা হস্তান্তর আসলে ‘পুরোনো মদ নতুন বোতলে’ পরিবেশন করার মতো। এতে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন আসবে না। তার মতে, ‘তারা কেবল পুরোনো মুখগুলোকেই নতুন সাজে উপস্থাপন করছে। খুব তাড়াতাড়ি কোনো পরিবর্তন আসবে না।’

সামরিক বাহিনী তাদের অভ্যুত্থানকে ‘প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ’ বলে দাবি করে। তাদের অভিযোগ, ২০২০ সালের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি হয়েছিল, যেখানে অং সান সু চির দল নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছিল। যদিও আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা এমন কোনো জালিয়াতির প্রমাণ পায়নি যা নির্বাচনের ফলাফল বদলে দিতে পারে।

শেষ কথা: আশা কি তবে সুদূর পরাহত?

মিয়ানমারের এই তথাকথিত ক্ষমতা হস্তান্তর দেশটির সাধারণ মানুষের জন্য কোনো স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসেনি। বরং এটি সামরিক শাসকদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার একটি নতুন কৌশল বলেই মনে হচ্ছে। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া মিয়ানমারে শান্তি ও গণতন্ত্র ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক চাপ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ এই সামরিক জান্তাকে কতটা টলাতে পারে। মিয়ানমারের ভাগ্যাকাশে জমে থাকা কালো মেঘ কবে কাটবে, সেই উত্তর কেবল সময়ই দিতে পারবে।

বাংলাদেশ নিউজ২৪ এর মতামত: মিয়ানমারের এই রাজনৈতিক চাল নিয়ে আপনার কী মনে হয়? এই ‘নতুন’ সরকার কি দেশটির সাধারণ মানুষের জন্য কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।

Myanmar’s junta hands power to an interim government. Is this a real change or a political stunt? Uncover the truth behind the upcoming election.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top