পরিচিতি: এনসিপি অভ্যন্তরীণ কোন্দল কি এবার প্রকাশ্যে?
বন্ধুরা, কেমন আছো সবাই? রাজনৈতিক অঙ্গনের খবর যারা ফলো করো, তাদের জন্য আজ একটা বেশ গরম খবর আছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর অন্দরমহলে নাকি এক দারুণ কাণ্ড চলছে! আমরা আগে শুনেছি ৫ জন শীর্ষ নেতাকে শোকজ করা হয়েছে, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ব্যাপারটা আরও গভীরে। একজন পরিচিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না সম্প্রতি তার ইউটিউব চ্যানেলে এমন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন, যা শুনলে তুমিও অবাক হবে। তিনি বলেছেন, এনসিপির ভেতরের খবরগুলো নাকি এবার একেবারে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসবে!
তার কথার মূল বিষয় হলো, এনসিপির দুই গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক – আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলম – সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। আর এই মুখোমুখি অবস্থান থেকেই নাকি আমরা অনেক গোপন খবর জানতে পারছি। তাহলে চলো, একটু বিস্তারিত জেনে নিই, এই এনসিপি অভ্যন্তরীণ কোন্দল আসলে কী এবং এর পেছনের কারণগুলো কী হতে পারে।
পান্নার বিশ্লেষণ: অন্দরমহলের খবরে কী উঠে আসছে?
মঞ্জুরুল আলম পান্না তার বিশ্লেষণে সরাসরি কিছু বিস্ফোরক অভিযোগের কথা বলেছেন। তিনি বলছেন, হয়তো খুব দ্রুতই আমরা জানতে পারব:
- এনসিপির শীর্ষ নেতাদের দুর্নীতি বা লুটপাটের ঘটনা।
- তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কৌশল কেমন ছিল।
- গণ-অভ্যুত্থানে এনসিপির এই শীর্ষ নেতাদের কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র ছিল কি না।
- মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের বিষয়।
- কী ধরনের প্লট নির্মাণ করা হয়েছিল সেই আন্দোলনে।
পান্না সাহেবের মতে, এরই মধ্যে এনসিপি নাকি মারাত্মকভাবে বহুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বিষয়টা সত্যিই চিন্তার, তাই না? একটা দল যেখানে দেশের জন্য কাজ করার কথা, সেখানে যদি এমন অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকে, তাহলে তো জনমনে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
শোকজ: কারণ কি শুধু কক্সবাজার সফর?
আমরা আগেই জেনেছি যে, এনসিপির শীর্ষ ৫ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল যে, তারা ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের’ বর্ষপূর্তির দিনে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। কিন্তু পান্না এই কারণের পেছনেও অন্য এক গুঞ্জনের কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, কক্সবাজার সফর এবং সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে গোপন বৈঠকের গুঞ্জন নাকি একই সূত্রে গাঁথা।
নোটিশে বলা হয়েছে, কেন তারা ব্যক্তিগত সফরে কক্সবাজার গেলেন এবং কেন সে বিষয়ে রাজনৈতিক পর্ষদকে আগে থেকে কোনো তথ্য বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। শোকজ হওয়া সেই নেতারা হলেন: হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ডা. তাসনিম জারা এবং খালেদ সাইফুল্লাহ। এই এনসিপি ৫ নেতার শোকজ কি সত্যিই তাদের গোপন বৈঠকের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
মাহফুজ-আসিফ: প্রকাশ্যে মুখোমুখি, ডিলিট করা পোস্টের রহস্য
এনসিপি অভ্যন্তরীণ কোন্দল এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো, দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলম (যিনি সরকারের তথ্য উপদেষ্টা পদেও রয়েছেন), তাদের সরাসরি মুখোমুখি অবস্থান। পান্না বলেছেন, তাদের এই দ্বন্দ্ব থেকেই অনেক গোপন তথ্য বেরিয়ে আসছে।
মাহফুজ আলম গত ৪ আগস্ট তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন, যেখানে লেখা ছিল, ‘এক-এগারোর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।’ পরে সমালোচনার মুখে তিনি সেটি এডিট করেন এবং এরপর ডিলিটও করেন। মজার ব্যাপার হলো, এই পোস্টটি ডিলিট করার পর আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘আগে সরকারের ভয়ে জনগণ পোস্ট ডিলিট করত, এখন জনগণের ভয়ে সরকার পোস্ট ডিলিট করে।’
এর মানে কী দাঁড়ায়? আসিফ মাহমুদ স্পষ্টতই মাহফুজ আলমকে ইঙ্গিত করে এই মন্তব্য করেছেন। পান্না আরও বলেছেন যে, ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে সরকারের যে ড্রোন শো হয়েছিল, সেখানে নাকি আসিফ মাহমুদের এই পোস্টটিও দেখানো হয়েছিল। বোঝাই যাচ্ছে, দ্বন্দ্ব-সংঘাত কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে!
সন্দেহ আর বিতর্ক: লোক দেখানো শোকজ?
মঞ্জুরুল আলম পান্না শোকজ নোটিশের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই কারণ দর্শানোর চিঠির কোনো প্রয়োজনীয়তা ছিল? এগুলো কি শুধু লোক দেখানো নয়?’ তিনি মনে করেন, এনসিপির শীর্ষ নেতারা চাকরি করেন না যে, তাদের গঠনতন্ত্রে এই ধরনের শোকজের নিয়ম থাকবে। তিনি আরও বলেছেন যে, অভ্যুত্থানের মূল দাবিদার এই শীর্ষ নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দলীয় ফোরামকে না জানিয়ে কক্সবাজার যেতে পারে না। এর পেছনে অবশ্যই কোনো গোপন বৈঠক ছিল। তাই, কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়াটা তার কাছে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার’ মতো মনে হয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই তারা কক্সবাজার গিয়েছিলেন, যদিও পিটার হাস কোথায় আছেন, তা নিয়ে বিতর্ক আছে।
মাহফুজ আলম এর আগেও অনেক পোস্ট এডিট করেছেন বা ডিলিট করেছেন। পান্না উদাহরণ হিসেবে ২৯ জুলাই এর একটি পোস্টের কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে সিডনিতে তার ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি লিখেছিলেন, “আজকাল অনেকের লেজ কাটা গিয়েছে বলে আমার বিরুদ্ধে লেগেছেন নতুন একটি দলের কয়েকজন মহারথী। সবই প্রকাশ পাবে। এটা সার্কেলের প্রায় সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত এবং একজন কোনো টাকা ধরছেন না সেটি কার সহ্য হবে।” পরে এটি এডিট করে লেখা হয়, “আজকাল অনেকের লেজ কাটা যাচ্ছে বলে আমার বিরুদ্ধে লেগেছেন। বিভিন্ন দলের কয়েকজন মহারথী এতে জড়িত, সব ষড়যন্ত্র প্রকাশ পাবে।” এই রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের পর দলের ভেতরের এই অবস্থা খুবই উদ্বেগজনক।
ভবিষ্যৎ কী: এনসিপির পথচলা এখন কোন দিকে?
এই দ্বন্দ্ব-সংঘাত এখন একেবারেই প্রকাশ্যে চলে আসছে। এমনকি এনসিপি গঠনের আগেও আহ্বায়ক কে হবেন, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। তখন এক ছাত্র উপদেষ্টার বাসায় কেউ কেউ মাহফুজ আলমের নাম প্রস্তাব করলেও, শেষমেশ নাহিদ ইসলামকে এনসিপির আহ্বায়ক করা হয়। দলের মধ্যে লবিং থাকতেই পারে, কিন্তু আত্মপ্রকাশের আগেই যখন একে অন্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তখন এই দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শঙ্কা তৈরি হয়।
মঞ্জুরুল আলম পান্নার মতে, একসময় এই এনসিপি নেতাদের সমর্থন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, তারাই তাদের নিজেদের ক্যারিয়ার এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নষ্ট করছেন। এনসিপি অভ্যন্তরীণ কোন্দল কি এই দলের পতন ডেকে আনবে? নাকি তারা এই পরিস্থিতি সামলে উঠতে পারবে, তা সময়ই বলে দেবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক খবর জানতে আমাদের সাথেই থাকুন: bdnews24us.com
উপসংহার: এনসিপির অন্দরমহলে কি ঝড়ের পূর্বাভাস?
বন্ধুরা, এনসিপির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নেতাদের শোকজ এবং মাহফুজ-আসিফের মুখোমুখি অবস্থান নিঃসন্দেহে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঞ্জুরুল আলম পান্নার বিশ্লেষণ থেকে আমরা দলের ভেতরের বেশ কিছু অন্ধকার দিকের ইঙ্গিত পাচ্ছি, যা দলের ভবিষ্যৎ পথচলায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে গুরুত্বপূর্ণ দিনে নেতাদের বিতর্কিত সফর, অন্যদিকে শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব – সবকিছু মিলিয়ে এনসিপির অন্দরমহলে এক ঝড়ের পূর্বাভাস দেখা যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই পরিস্থিতি সামলাতে দল কী পদক্ষেপ নেয় এবং এর চূড়ান্ত ফলাফল কী দাঁড়ায়।
বাংলাদেশ নিউজ২৪ এর মতামত: “রাজনৈতিক দলের ভেতরের এই টানাপোড়েন শুধু নেতাদের ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এর প্রভাব পড়ে দেশের রাজনীতিতেও। এনসিপির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল কি দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে প্রভাবিত করবে? তোমার কী মনে হয়, এই মুহূর্তে এনসিপির কী করা উচিত? নিচে কমেন্ট করে তোমার মূল্যবান মতামত জানাতে ভুলো না!”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মঞ্জুরুল আলম পান্নার কথায় এনসিপি অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে। মাহফুজ-আসিফ মুখোমুখি, ৫ নেতার শোকজ ও গোপন বৈঠকের গুঞ্জন। দলের ভেতরের চাঞ্চল্যকর খবর!


