Surjo Dighal Bari Charity Screening

অবিশ্বাস্য! সিডনিতে ‘সূর্য দীঘল বাড়ি প্রদর্শনী’, আয়ের পুরোটাই ক্যানসার তহবিলে!

সিডনিতে ‘সূর্য দীঘল বাড়ি প্রদর্শনী’: যখন সিনেমা মানবতায় কথা বলে!

বন্ধুরা, কেমন আছো সবাই? চলো আজ আমরা এমন একটা দারুণ খবর নিয়ে কথা বলি, যা আমাদের মনকে আনন্দে ভরিয়ে দেবে। ভেবে দেখো তো, যখন একটি অসাধারণ সিনেমা দেখা হয়, আর সেই সাথে যদি সেটা একটা মহৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তাহলে কেমন লাগে? ঠিক এমনটাই ঘটেছে সিডনিতে! বাংলাদেশের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’র একটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে, আর এই প্রদর্শনী থেকে পাওয়া সব অর্থ সরাসরি চলে গেছে অস্ট্রেলিয়ার ক্যানসার কাউন্সিলের তহবিলে। কী অসাধারণ উদ্যোগ, তাই না?

‘সূর্য দীঘল বাড়ি’: এক কালজয়ী সিনেমার গল্প

গত রোববার সিডনির মিন্টো শহরতলির ‘জমিদার বাড়ি’ রেস্তোরাঁয় এই বিশেষ আয়োজনটি করেছিল চলচ্চিত্র পরিবেশক সংস্থা ‘বঙ্গজ ফিল্মস’। তাদের এই আয়োজনের নাম ছিল ‘বিগেস্ট মর্নিং টি’, যা ক্যানসার কাউন্সিলের জন্য তহবিল সংগ্রহের একটি পরিচিত উদ্যোগ।

এই আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন চলচ্চিত্রটির অন্যতম পরিচালক মসিহ্‌উদ্দিন শাকের। ১৯৭৯ সালে মুক্তি পাওয়া এই অসাধারণ সিনেমাটি প্রদর্শনের পর তিনি দর্শকদের সাথে সরাসরি কথা বলেন। তিনি ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ নির্মাণের পেছনের অনেক অজানা গল্প শোনান, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে তোলে। আয়োজক তানিম মান্নান জানিয়েছেন, বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসা আর একটি মহৎ উদ্দেশ্য—এই দুটোকে এক করতেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

পরিচালক মসিহ্‌উদ্দিন শাকের এই আয়োজনের দারুণ প্রশংসা করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে হয়তো বড় অডিটরিয়াম ভাড়া করা সম্ভব হয়নি, কিন্তু আয়োজকদের মানসিকতা এবং এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসার যোগ্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘আর “সূর্য দীঘল বাড়ি” ছবিতে নারীর যে সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা আজও প্রাসঙ্গিক। কারণ, আমাদের সমাজ এখনো নানা দূষণ থেকে মুক্ত হতে পারেনি।’ তার এই কথাগুলো থেকে বোঝা যায়, এই সিনেমার আবেদন কতটা চিরন্তন এবং আজকের দিনেও কতটা প্রাসঙ্গিক।

কেন ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ এত বিশেষ?

আবু ইসহাকের কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ বাংলাদেশের প্রথম সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। মসিহ্‌উদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলী যৌথভাবে ছবিটি পরিচালনা করেন। এই চলচ্চিত্রটি গ্রামীণ বাংলার এক নারীর জীবন-সংগ্রাম, দারিদ্র্য, কুসংস্কার এবং সামাজিক নিপীড়নকে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরেছে। মুক্তির পর থেকেই এটি সমালোচক এবং দর্শকদের কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং এটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে আছে। এই ধরনের একটি ক্লাসিক সিনেমাকে এমন মহৎ উদ্দেশ্যে প্রদর্শিত হতে দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। সূর্য দীঘল বাড়ি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারো উইকিপিডিয়াতে।

ক্যানসার তহবিলে সাহায্যের হাত

এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল অস্ট্রেলিয়ার ক্যানসার কাউন্সিলের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা। ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা অনেক পরিবারকে অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। ক্যানসার কাউন্সিল এই রোগীদের পাশে দাঁড়ায়, তাদের চিকিৎসা ও গবেষণায় সহায়তা করে।

পরিচালক মসিহ্‌উদ্দিন শাকেরের সহধর্মিণী ও সমাজকর্মী জেবুন নেসা এই উদ্যোগ নিয়ে খুব খুশি। তিনি বলেন, ‘আমরা তো বাংলাদেশে কাজ করি হেলদি লাইফস্টাইল (সুস্থ জীবনধারা) নিয়ে। আমাদের একটি সংগঠন আছে নাম “হীল—সুস্থ সবল কর্মময় জীবন”। তো এখানে যখন দেখলাম ক্যানসার কাউন্সিলের জন্য এই আয়োজন করা হয়েছে, আমার ব্যক্তিগতভাবে খুব ভালো লেগেছে। একই সঙ্গে একটি অসাধারণ ছবি দেখা এবং ক্যানসার কাউন্সিলের মতো একটি মহৎ উদ্দেশ্যের সঙ্গে জড়িত হওয়া খুবই আনন্দের।’ তার এই কথাগুলো থেকেই এই উদ্যোগের গুরুত্ব বোঝা যায়।

দর্শকদের অভিজ্ঞতা: আনন্দ আর অনুপ্রেরণা

অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক সিডনির সংগীতশিল্পী মামুন হাসান খান তাঁর অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘পরিচালকের উপস্থিতিতে ছবিটি দেখতে পারাটা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এমন একটি মহৎ উদ্দেশ্যে আয়োজনটি হওয়ায় আমাদের আনন্দ আরও বেড়েছে। তবে ছবি দেখার স্থানটি আরও ভালো জায়গায় হলে ভালো হতো।’ তার এই কথায় বোঝা যায়, দর্শকরা যেমন সিনেমা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন, তেমনি মহৎ কাজে অংশ নিতে পেরেও আনন্দিত হয়েছেন। এমন একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে একত্রিত করে, যা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।

এই ‘সূর্য দীঘল বাড়ি প্রদর্শনী সিডনি’ ইভেন্টটি প্রমাণ করে যে, শিল্প আর মানবতা কীভাবে হাত ধরাধরি করে চলতে পারে। একটি সিনেমা শুধু বিনোদনই নয়, তা সমাজের জন্য কল্যাণও বয়ে আনতে পারে। এমন উদ্যোগগুলো আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। আশা করি, ভবিষ্যতে এমন আরও অনেক সুন্দর উদ্যোগ দেখা যাবে, যেখানে শিল্প এবং মানবসেবা এক হয়ে কাজ করবে।

বাংলাদেশ নিউজ২৪ এর মতামত: ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ চলচ্চিত্রটি যেমন বাংলাদেশের সিনেমার এক অমূল্য সম্পদ, তেমনি ক্যানসার তহবিলে এর প্রদর্শনীর আয় সম্পূর্ণ অনুদান দেওয়া এক মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শিল্প ও মানবসেবার এই মেলবন্ধন সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এমন উদ্যোগ সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল বার্তা দেয়। আপনার কী মনে হয়, এমন আরও আয়োজন হওয়া উচিত? আপনার মূল্যবান মতামত নিচে কমেন্ট করে জানান! দেশের অন্যান্য সংস্কৃতি ও বিনোদন বিষয়ক খবর জানতে ভিজিট করুন: bdnews24us.com

সিডনিতে বাংলাদেশের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘সূর্য দীঘল বাড়ি প্রদর্শনী’ থেকে সংগৃহীত সব অর্থ অস্ট্রেলিয়ার ক্যানসার কাউন্সিলের তহবিলে দান করা হয়েছে। এই মহৎ উদ্যোগের বিস্তারিত জানুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top