Testimony Against Sheikh Hasina

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য: ট্রাইব্যুনালে যা বললেন গুলিবিদ্ধ প্রথম সাক্ষী!

আদালতে আবেগঘন মুহূর্ত: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষ্য!

বন্ধুরা, সারা দেশের মানুষ যে বিচারের দিকে তাকিয়ে আছে, সেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অবশেষে শুরু হলো সাক্ষ্যগ্রহণ। আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক আবেগঘন পরিবেশে সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রথম সাক্ষী খোকন চন্দ্র বর্মন। তাঁর বর্ণনায় ফুটে উঠেছে সেই সময়ের ভয়ংকর চিত্র। চলুন, জেনে নিই আদালতে ঠিক কী কী ঘটেছে।

কে এই খোকন বর্মন এবং কী ঘটেছিল তাঁর সাথে?

খোকন চন্দ্র বর্মন, পেশায় একজন সাধারণ মাইক্রোবাস চালক। কিন্তু তাঁর জীবনের গল্প এখন আর সাধারণ নেই। আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, গত ৫ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশ সরাসরি তাঁর মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সেই গুলি তাঁর বাম চোখ, নাক ও মুখে আঘাত করে। কথা বলার সময় তিনি আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের মুখের মাস্ক খোলেন। তখন সবাই দেখতে পান, তাঁর মুখমণ্ডলের বাম পাশটি কতটা নির্মমভাবে বিকৃত হয়ে গেছে। এই দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তাঁর এই অবস্থা দেখেই বোঝা যায়, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে তিনি কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সরাসরি কাদের দায়ী করলেন খোকন?

খোকন চন্দ্র বর্মন তাঁর জবানবন্দিতে কোনো রাখঢাক করেননি। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, “যারা হাজার হাজার মানুষকে মেরেছিল, তাঁদের জন্য শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান—তাঁরা দায়ী এবং আমি তাঁদের বিচার চাই।” তাঁর এই বক্তব্যে আদালতের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

মামলার অন্য আসামিরা কে এবং রাজসাক্ষী কে?

এই চাঞ্চল্যকর মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও আসামি। তাঁরা দুজনেই বর্তমানে পলাতক। তবে সবচেয়ে বড় চমক হলো, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এই মামলায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি এখন এই মামলার ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী। এর অর্থ হলো, তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে পুরো ঘটনার সত্য বিবরণ আদালতে তুলে ধরবেন, যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগে এমন স্বীকারোক্তি মামলাকে নতুন দিকে মোড় দিতে পারে।

জেরায় যা বললেন সাক্ষী

সাক্ষ্য দেওয়ার পর পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন খোকন বর্মনকে জেরা করেন। আইনজীবী প্রশ্ন করেন, “আপনি যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দায়ী করলেন, তার কোনো দলিল আছে?” জবাবে খোকন সহজভাবে বলেন, “না।” আইনজীবী আরও দাবি করেন যে, আন্দোলনকারীরা পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছিল এবং সেই সংঘর্ষের সময় তিনি আহত হয়েছেন। কিন্তু খোকন বর্মন এই দাবিকে সরাসরি “অসত্য” বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ ও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য

সাক্ষ্যগ্রহণের আগে ট্রাইব্যুনালের সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “শেখ হাসিনা সব অপরাধের নিউক্লিয়াস।” অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানও আদালতে উপস্থিত হয়ে বলেন, তিনি এই মামলার আসামিদের দেশের প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি চান। এই মামলার বিচার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি বড় পদক্ষেপ। এই ধরনের অন্যান্য চাঞ্চল্যকর মামলার আপডেট পেতে চোখ রাখুন রাজনীতির পাতায়

এই সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলো। খোকন বর্মনের মতো সাধারণ মানুষেরাই এখন এই বিচারের মূল শক্তি। আগামী দিনগুলোতে আরও কী কী তথ্য বেরিয়ে আসে, তা দেখার জন্য দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আমরা আশা করি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ভুক্তভোগীরা তাঁদের স্বজন হারানোর কষ্ট ও নিজেদের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার পাবেন।

বাংলাদেশ নিউজ২৪ এর মতামত: প্রথম সাক্ষীর এই আবেগঘন ও সাহসী জবানবন্দি সম্পর্কে আপনার কী মনে হচ্ছে? এই বিচার প্রক্রিয়া কি স্বচ্ছভাবে এগিয়ে যাবে বলে আপনি মনে করেন? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন প্রথম সাক্ষী। আদালতে নিজের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা ও ক্ষোভের কথা জানালেন গুলিবিদ্ধ খোকন বর্মন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top