Impact of US Tariffs on Bangladesh Garment Industry

ট্রাম্পের শুল্কের খাঁড়া: বাংলাদেশের পোশাক খাত ও লাখো নারী শ্রমিকের ভবিষ্যৎ কি অনিশ্চিত?

বন্ধুরা, কেমন আছেন? চলুন আজ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আড্ডা দেওয়া যাক।

ভাবুন তো একবার, আপনার আমার প্রতিদিনের সঙ্গী, আমাদের গর্বের “Made in Bangladesh” ট্যাগ লাগানো পোশাকগুলো যদি হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক বাজারে হোঁচট খায়? বিষয়টা শুধু ব্যবসায়িক ক্ষতির নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের দেশের লাখো মায়ের, বোনের জীবন-জীবিকার প্রশ্ন। সম্প্রতি প্রভাবশালী ব্রিটিশ ম্যাগাজিন ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ ঠিক এমনই এক আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে, যা আমাদের সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসেন, তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বা রেডিমেড গার্মেন্টস (RMG) খাতের ওপর নেমে আসতে পারে বড়সড় এক বিপর্যয়। আর এই ঝড়ের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন আমাদের নারী শ্রমিকরা। চলুন, পুরো বিষয়টা সহজ করে জেনে নিই।

শুল্কের খড়্গ: ব্যাপারটা আসলে কী?

খুব সহজ ভাষায়, শুল্ক বা ট্যারিফ (Tariff) হলো এক দেশ থেকে অন্য দেশে কোনো পণ্য আমদানি করার সময় যে কর দিতে হয়। দ্য ইকোনমিস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানিকৃত পোশাকের ওপর প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর কথা ভাবছে।

বিষয়টা এমন—ধরুন, বাংলাদেশ থেকে ১০ ডলারের একটি টি-শার্ট যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হলো। এখন যদি ৩৫% শুল্ক বসে, তাহলে সেটার দাম হয়ে যাবে সাড়ে ১৩ ডলার। ফলে আমেরিকার ক্রেতাদের কাছে আমাদের পোশাক অনেক বেশি দামি মনে হবে। তারা তখন অন্য কোনো দেশ থেকে সস্তায় পোশাক কেনা শুরু করবে। ফলাফল? যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের পোশাকের অর্ডার কমে যাবে, যা আমাদের অর্থনীতির জন্য একটা বড় ধাক্কা।

মূল আঘাতটা কোথায়: আমাদের পোশাক খাত ও নারী শ্রমিকরা

আপনারা তো জানেনই, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। আমাদের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ, প্রায় ৮৪ শতাংশই আসে এই খাত থেকে। আর এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রাণ হলেন প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক, যাদের ৬০ শতাংশেরও বেশি নারী।

এই নারীদের অনেকেই গ্রামের হতদরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। পোশাক শিল্প তাদের শুধু একটা চাকরি দেয়নি, দিয়েছে আত্মসম্মান, পরিবারে নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আর অর্থনৈতিক মুক্তির স্বাদ। এই খাতটা শুধু একটা ইন্ডাস্ট্রি নয়, এটা বাংলাদেশের নারী ক্ষমতায়নের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম।

দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলোর কয়েক কোটি নারী এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। ট্রাম্পের এই বাণিজ্যযুদ্ধ (Trade War) যদি সত্যিই শুরু হয়, তাহলে সবচেয়ে বড় আঘাতটা লাগবে এই নারীদের জীবনে। অর্ডার কমে গেলে ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ হতে থাকবে, আর সবার আগে চাকরি হারাবেন এই প্রান্তিক নারীরাই।

বিজিএমইএ কী বলছে? হতাশা নাকি আশা?

অবশ্যই এই পরিস্থিতিতে আমাদের পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন, বিজিএমইএ (BGMEA) চুপ করে বসে নেই। সংগঠনটির সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল দ্য ইকোনমিস্টকে প্রথমে বলেছিলেন, “এটি আমাদের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।”

তবে পরবর্তীতে তিনি জানিয়েছেন, এই রিপোর্টটি আগের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বাংলাদেশ সরকার ও বিজিএমইএ এখন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে sürekli (continuous) আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আশা করছেন, আলোচনার মাধ্যমে একটা ভালো সমাধান আসবে এবং আমাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের পোশাক খাত যেকোনো আন্তর্জাতিক চাপ সামলে স্থিতিশীল থাকতে প্রস্তুত এবং এ নিয়ে হতাশ না হয়ে আশাবাদী হওয়া উচিত।

চ্যালেঞ্জ ও আমাদের করণীয়: বসে থাকলে চলবে না!

বন্ধুরা, পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে জটিল। কিন্তু ভয় পেয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে তো চলবে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের কয়েকটি দিকে জরুরিভাবে নজর দিতে হবে:

  • কূটনৈতিক তৎপরতা (Diplomatic Moves): সরকারকে এখনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসতে হবে। এই শুল্ক নীতি থেকে অব্যাহতি বা ছাড় আদায়ের জন্য সবরকম চেষ্টা চালাতে হবে।
  • নতুন বাজারের সন্ধান: শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। আমাদের এখন জাপান, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, লাতিন আমেরিকার মতো নতুন বাজার খুঁজতে হবে। আমাদের রপ্তানির ঝুড়িটাকে আরও বড় এবং বৈচিত্র্যময় করতে হবে।
  • পণ্যের মান ও বৈচিত্র্য: শুধু টি-শার্ট আর ট্রাউজার নয়, আমাদের এখন হাই-ভ্যালু বা দামী ও বৈচিত্র্যময় পোশাক (যেমন: স্যুট, জ্যাকেট, ফ্যাশনেবল আইটেম) তৈরির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এতে কম পণ্য বেঁচেও বেশি আয় করা সম্ভব।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এর আগেও রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির মতো ভয়াবহ বিপর্যয় সামলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আমাদের শ্রমিকদের কর্মদক্ষতা আর মালিকদের দৃঢ়তায় এই খাত আজ বিশ্বজুড়ে এক ব্র্যান্ড।

এই নতুন চ্যালেঞ্জটাও আমাদের সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। সরকার, মালিকপক্ষ, শ্রমিক এবং আমরা সাধারণ মানুষ—সবার সচেতনতা ও সমর্থন প্রয়োজন। আমাদের “Made in Bangladesh” ট্যাগ শুধু একটি বাণিজ্যিক চিহ্ন নয়, এটা আমাদের জাতীয় পরিচয় ও গৌরবের প্রতীক। আসুন, এই প্রতীককে সুরক্ষিত রাখতে আমরা সবাই একসাথে কাজ করি।

বাংলাদেশ নিউজ২৪ এর মতামত: এই বাণিজ্যযুদ্ধের মেঘ কেটে যাবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। তবে আত্মসন্তুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় করণীয় কী বলে আপনি মনে করেন? আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান।

Discover how potential US tariffs under Trump could devastate Bangladesh’s garment industry, impacting millions of female workers and the national economy. An in-depth look.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top