বৃটেনে ভিসার শর্ত ভেঙে ফুড ডেলিভারির কাজে নিয়োজিত হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী এখন চরম বিপাকে পড়েছেন। সম্প্রতি বৃটিশ সরকার ও পুলিশ রাস্তায় রাস্তায় অভিযান চালিয়ে অনিয়মিত ও ভিসার শর্ত লঙ্ঘনকারীদের ধরতে শুরু করেছে, যার ফলে বৈধ ডেলিভারিম্যানরাও নানা হয়রানি ও সময় নষ্টের শিকার হচ্ছেন।
এই সংকটের পেছনে রয়েছে কেয়ার ভিসা ও স্টুডেন্ট ভিসায় আসা অভিবাসীদের প্রতারণার শিকার হওয়া এবং কাজের অনুমতি না থাকায় অন্যের অ্যাপস ভাড়া করে ফুড ডেলিভারির কাজে যুক্ত হওয়া। অনেকেই বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ টাকা খরচ করে বৃটেনে এসে প্রতারিত হয়েছেন, কারণ স্পন্সর কোম্পানিগুলোতে কাজ নেই বা কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে টিকে থাকার জন্য সহজ উপার্জনের পথ হিসেবে ফুড ডেলিভারির কাজ বেছে নিয়েছেন তারা।
বৃটিশ সরকার এখন হার্ডলাইনে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন, আশ্রয়প্রার্থীদের হোস্টেলের ঠিকানা ফুড ডেলিভারি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে শেয়ার করা হবে, যাতে অবৈধভাবে কাজ করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। স্টারমার বলেছেন, “ব্রিটিশ জনগণের প্রতি ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে যা কিছু প্রয়োজন, তাই করব।”
সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে Uber Eats, Deliveroo, Just Eat-এর মতো প্ল্যাটফর্মে পরিচয় যাচাই আরও কঠোর হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে, যাদের বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি নেই, তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এভাবে ব্যক্তিগত তথ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগ করে নিলে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কমিউনিটি নেতারা বলছেন, শুধু প্রবাসী নয়, দালালদেরও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এদিকে, বড় বড় ফুড ডেলিভারি কোম্পানিগুলো সরকারের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ নিউজ24 ইনসাইট: বৃটেনে ফুড ডেলিভারির এই সংকট শুধু অভিবাসী বাংলাদেশিদের জীবিকা নয়, বরং বৈধতা, মানবাধিকার ও তথ্য নিরাপত্তার প্রশ্নও সামনে এনেছে। কঠোর নীতির ফলে হাজারো পরিবার অনিশ্চয়তায় পড়লেও, দীর্ঘমেয়াদে অভিবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বাড়বে—এটাই সরকারের আশা।


