ঢাকায় জাতিসংঘ মিশন বিতর্ক: সার্বভৌমত্ব নাকি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা?
ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশন (OHCHR) মিশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ইসলামী দলগুলোর তীব্র বিরোধিতার বিপরীতে বিএনপি-জামায়াতের রক্ষণশীল অবস্থান এবং সরকারের ‘স্বার্থ সংরক্ষণ’ দাবি নিয়ে চলছে উত্তপ্ত বিতর্ক।
ইসলামী দলগুলোর আপত্তির মূল কারণ
হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুক্তি:
- এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ‘সুপ্ত এজেন্ডা’
- ইসলামী মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির উপর প্রভাবের শঙ্কা
- পশ্চিমা দেশগুলোর ইসলামোফোবিক নীতির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ
হেফাজতের মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর বক্তব্য: “ফিলিস্তিনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সময় এই সংস্থার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।”
বিএনপি-জামায়াতের দ্বিধাবিভক্ত অবস্থান
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্সের প্রশ্ন: “অন্তর্বর্তী সরকারের এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার কী?” অন্যদিকে, জামায়াতের এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, “আমরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করছি।”
সরকারের ব্যাখ্যা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের দাবি: “এটি বাংলাদেশের স্বার্থেই নেয়া হয়েছে। ছয় মাসের নোটিশে বন্ধের সুযোগ রয়েছে।” জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, OHCHR-এর স্থায়ী মিশন রয়েছে সিরিয়া, ইয়েমেনের মতো সংঘাতপ্রবণ ১৬টি দেশে।
বিশ্লেষণ: বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি নাকি সুযোগ?
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে:
- প্রতিবেদন তৈরির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির механизм
- বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাবের সম্ভাবনা
- স্থানীয় মানবাধিকার কমিশনের সাথে সমন্বয়ের চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশ নিউজ২৪ এর মতামত: জাতীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এই বিতর্কের মূল চাবিকাঠি। পাঠকদের সাথে প্রশ্ন – আপনি কী মনে করেন? ঢাকায় এই মিশন বাংলাদেশের জন্য হুমকি নাকি উন্নয়নের সহায়ক? নিচে মন্তব্য করুন।
Bangladesh’s political parties react to UN Human Rights Office in Dhaka. Why Islamic groups oppose it, BNP-Jamaat’s silence, and implications for sovereignty.


