খুন, সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজির লাগামহীন বিস্তার
বন্ধু, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পরিস্থিতি দেখে কি তোমারও মনে হচ্ছে নিরাপত্তা যেন কোথাও হারিয়ে গেছে? খুন, সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজির লাগাম টানা যাচ্ছে না। দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে, চাঁদা আদায় করছে। ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ শ্রমিক—কেউ নিরাপদ নয়। অনেকে ভয়ে পুলিশের কাছেও অভিযোগ করতে পারছেন না।
অভিযোগ করলেই প্রাণহানির ভয়
চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই বড় ধরনের ঝুঁকি। কারণ একবার অভিযোগ করলেই হুমকি আসে, এমনকি জীবনও চলে যেতে পারে। এ কারণে অনেক মানুষ চুপচাপ জিম্মি হয়ে বেঁচে আছেন। এই চাঁদাবাজির নতুন কৌশল হলো ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে মব তৈরি করা। সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে এ ধরনের একটি চক্রকে পুলিশ ফাঁদ পেতে ধরেছে।
জনগণের ক্ষোভ আর প্রতিবাদ
দেশের নানা জায়গায় মানুষ ক্ষোভে রাস্তায় নেমে আসছে। শিক্ষক, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, পরিবহন চালকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধন আর মিছিল করছে। মোহাম্মদপুর থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম পর্যন্ত চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানুষের স্লোগান একটাই—’আমরা নিরাপত্তা চাই।’
পরিসংখ্যানে ভয়াবহ চিত্র
গত এক বছরে (জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫) দেশে তিন হাজার ৮৫৭টি হত্যা মামলা হয়েছে। প্রতি মাসে গড়ে ২৮৮টি খুনের মামলা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় হত্যাকাণ্ড বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি অপরাধ দমন করতে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’ একই কথা জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এআইজি ইনামুল হক।
গোড়ার সমস্যাগুলো চিহ্নিত
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক বিরোধ, জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব, মাদক কারবার ও চাঁদাবাজি—এসবই হত্যাকাণ্ড বাড়ার প্রধান কারণ। প্রতিটি হত্যার পেছনে একটি পরিবার নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। সঠিকভাবে তদন্ত আর দ্রুত বিচারের মাধ্যমে অপরাধের লাগাম টানা সম্ভব।
সাধারণ মানুষের ক্ষোভ
ঢাকার মোহাম্মদপুর-আদাবরে শিক্ষক সমাজ মানববন্ধন করেছে, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা সাভারে নেমেছে রাস্তায়। ব্যবসায়ী আর পরিবহন শ্রমিকরা আশুলিয়ায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করেছে—’চাঁদাবাজি বন্ধ করো।’ চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত একই দাবি, ‘নিরাপত্তা চাই, ন্যায় চাই।’
সামনের পথ
সরকার বলছে, চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। কিন্তু জনগণের মনে প্রশ্ন—এবার কি সত্যিই লাগাম টানা হবে?
বন্ধু, আমরা সবাই চাই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হলে কেবল তখনই মানুষের মনে শান্তি ফিরবে।
বাংলাদেশ নিউজ২৪ এর মতামত: তোমার কি মনে হয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কি করা উচিত? নিচে কমেন্ট করে জানাও।
Uncontrolled killings, extortion, and terrorism are shaking Bangladesh. Citizens live in fear as law enforcement struggles to control rising crime rates.


